ফেব্রুয়ারি ২১, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নির্বাচনের পর পার্লামেন্টের প্রথম ভাষণে দেশটির ‘শুধু প্রতিরক্ষায় সীমিত’ সামরিক নীতি পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন। তথাকথিত ‘চীনের ক্রমবর্ধমান চাপ’-এর কথা উল্লেখ করেন তিনি। যদিও তিনি চীনকে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী’ বলে উল্লেখ করেন এবং স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ার কথা বলেন, তবুও প্রতিরক্ষা নীতি পুনর্গঠনের যুক্তি হিসেবে চীন ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিকেই সামনে আনেন তাকাইচি।
তিনি জানান, চলতি বছরই জাপানের তিনটি নিরাপত্তা নথি সংশোধন করে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণ করা হবে এবং সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির নিয়ম শিথিল করা হবে। এসব নথি ২০১৩ সালে প্রথম তৈরি করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, যা ২০২২ সালে ফুমিও কিশিদা সরকারের অনুমোদন পায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে জাপান তার প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করবে।
নথিগুলোতে আগে অন্তর্ভুক্ত না থাকা ‘প্রতিআক্রমণ সক্ষমতা’কে ‘আক্রমণ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যার ফলে জাপান তার তথাকথিত ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামুখী’ সামরিক নীতির আওতায় দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ সক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র রাখার সুযোগ পাচ্ছে।
জাপানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ইতোমধ্যে জাপানের সামরিক রপ্তানি সংক্রান্ত নিয়ম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে সামরিক রপ্তানি পাঁচটি অপ্রাণঘাতী উদ্দেশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে নিয়ম রয়েছে, তা বাতিল করা হতে পারে, যাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়।
তাকাইচি গত নভেম্বরে চীনের তাইওয়ান ইস্যুকে তথাকথিত ‘অস্তিত্ব সংকটের পরিস্থিতি’র সঙ্গে যুক্ত করেন, যা চীনের সার্বভৌমত্ব এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে এমন একটি ভুল মন্তব্য। তার ওই কথা চীনা কূটনীতিকরা একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে চীন জাপানের পুনরায় সামরিকীকরণের প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স-এ বক্তব্যে জাপানের এই প্রবণতাকে ‘বিপজ্জনক ধারা’ বলে সতর্ক করেন।
ফয়সল/নাহার
তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন
Advertisement