চীনের বিমানবাহী রণতরীতে ব্যবহৃত বিমানের নারী পাইলটদের প্রথম দল গুরুত্বপূর্ণ একটি অবতরণ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। দিনের বেলায় চলন্ত জাহাজের ডেকে এককভাবে অবতরণ ও আবার উড্ডয়নের পরীক্ষায় পাস করার পর তারা এখন রাতের প্রশিক্ষণ শুরু করেছেন। নৌবাহিনী জানিয়েছে, এটি তাদের দিন-রাত এবং স্থল থেকে সমুদ্র—সব পরিবেশে কাজ করার সক্ষমতা অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
পীত সাগরে প্রশিক্ষণের সময় নারী পাইলট ক্যাডেটরা হেলিকপ্টার নিয়ে জাহাজের কাছে পৌঁছান এবং নির্দিষ্ট পথে ডেকে অবতরণ করেন। অবতরণের পর আবার হেলিকপ্টার নিয়ে উড্ডয়ন করেন তারা। পরীক্ষার সময় দুটি সহায়ক জাহাজ পাশাপাশি থেকে সমন্বয় করে এবং জাহাজের কর্মীরা নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে পাইলটদের সহায়তা করেন।
বিমানবাহী রণতরীর চলন্ত ডেকে এককভাবে অবতরণ ও উড্ডয়ন করা একজন পাইলটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। কারণ সমুদ্রের পরিবেশ স্থলভাগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। ঢেউ, বাতাস ও জাহাজের দুলুনির কারণে অবতরণের সময় পাইলটকে খুব নিখুঁতভাবে হেলিকপ্টার নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
গণমুক্তি ফৌজের (পিএলএ) নৌ বিমান চলাচল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডেট ওয়াং মেংতি বলেন, “আমরা একটি বড় মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই। অবতরণের জায়গাটি ছোট। ঢেউ ও সমুদ্রের বাতাসে জাহাজটি দুলতে থাকে। তাই হেলিকপ্টার আরও নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।”
দিনের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় রাতের প্রশিক্ষণ। অন্ধকারে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় পাইলটদের ককপিটের বিভিন্ন যন্ত্রের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হয়। তারা যন্ত্রের তথ্য দেখে গতিপথ ঠিক করেন এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের নির্দেশনা মেনে নিরাপদে অবতরণ করেন।
পিএলএ নৌ বিমান চলাচল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষক চাং ইংচিয়ে বলেন, “সামনের সারির ইউনিটে যোগ দেওয়ার আগে ক্যাডেটদের পাঠ্যসূচির সব প্রশিক্ষণ শেষ করতে হবে এবং চূড়ান্ত মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হতে হবে।”
সূত্র: সিএমজি বাংলা