গতকাল (সোমবার) বিকেলে পিয়ংইয়য়ে, সফররত চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন।
বৈঠকে সি বলেন, এ সফরকে কাজে লাগিয়ে, নতুন যুগে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক জোরদারে তিনি কমরেড কিম জং-উনের সাথে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। আর এ সহযোগিতার লক্ষ্য হবে, দু’দেশের জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনা এবং আঞ্চলিক ও বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা আর সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখা।
এ সময় নতুন যুগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ৪-দফা প্রস্তাব পেশ করে সি চিন পিং বলেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যিক মৈত্রী দু’পক্ষের অভিন্ন আদর্শ ও সংগ্রামের ভিত্তিতে উন্নত হয়, যা সুগভীর ইতিহাস, স্থির রাজনৈতিক ভিত্তি ও সুসংবদ্ধ মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলেও, চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যিক মৈত্রীর ভিত্তি পরিবর্তিত হবে না; কমরেড কিম জং-উনের নেতৃত্বাধীন উত্তর কোরিয়ার সমাজতান্ত্রিক কর্তব্যের প্রতি চীনের সমর্থনে পরিবর্তন ঘটবে না; এবং দ্বিপাক্ষিক অভিন্ন স্বার্থ ও সুষ্ঠু কৌশলগত পরিবেশ সংরক্ষণের দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় পরিবর্তন আসবে না।
সি বলেন, দু’দেশের সর্বোচ্চ নেতাদের নেতৃত্ব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুবিধা। কমরেড কিম জং-উনের সাথে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত আদান-প্রদান বজায় রাখতে ইচ্ছুক তিনি, যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। চীন উত্তর কোরিয়ার সাথে আর্থ-বাণিজ্য, কৃষি, স্থাপত্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং চিকিত্সাসহ বিভিন্ন খাতের বাস্তব সহযোগিতা জোরদার করতে ইচ্ছুক, যাতে দু’দেশের জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনা যায়।
সি চিন পিং বলেন, দু’দেশের সীমান্ত এলাকার বন্দরগুলো সার্বিকভাবে পুনরায় খোলা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল কাজে লাগিয়ে, দু’দেশের জনগণের বিনিময় আরও সম্প্রসারণ করা হবে। চীন ও উত্তর কোরিয়ার বীরদের রক্ত দিয়ে গঠিত মৈত্রী দু’দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
সূত্র: সিএমজি বাংলা