হিমবাহ রক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের মতো ক্ষেত্রেগুলোয় চীনের সাথে যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে এখন জলবায়ু সহযোগিতা সবচেয়ে জরুরি অগ্রাধিকারগুলোর একটি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের চীন সফরের আগমুহূর্তে দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সমন্বয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেজরা মানসাব আলী খান খারাল ‘চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক’ সিজিটিএন’কে সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ৭৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক সময়ের সাথে সাথে অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক হিসেবে প্রমাণিত।
তিনি আরও বলেন, অতীতে অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার মতো খাতগুলো দুই দেশের দৃঢ় বন্ধনকে সংজ্ঞায়িত করলেও বর্তমানের পরিপক্ক কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিপেক্ষিতে উভয়পক্ষই এখন পরিবেশগত সমস্যাগুলো নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
সাক্ষাৎকারে জলবায়ু মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন যুগে প্রবেশ করছি। আমার মতে, এই পর্যায়ে আমাদের সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হওয়া উচিত জলবায়ু পরিবর্তন। কারণ আমরা ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার অন্যান্য ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করেছি। ইতিহাস সাক্ষী, পাকিস্তান ও চীন একে অপরের সব সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে বর্তমানে বিশ্ব যে সবচেয়ে বড় ও জরুরি সংকটের মুখোমুখি, তা হলো জলবায়ু। আমরা ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী রূপ দেখেছি। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কেবল সীমান্তই নয়, আমাদের হিমবাহও শেয়ার করা। তাই এই অঞ্চলের জন্য আমাদের একটি অভিন্ন হিমবাহ নীতি প্রয়োজন, যেখানে চীন নেতৃত্ব দিতে পারে।’
জলবায়ু মন্ত্রী চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে পরিবেশগত সহযোগিতার বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন। একই সাথে আঞ্চলিক হিমবাহ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতি তৈরি করতে দুই দেশের সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনেরও আহ্বান জানান।
সূত্র: সিএমজি বাংলা