চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নতুন সেতুবন্ধন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ আর দুই দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন এই তিনের সমন্বয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্রে (টিএসসি) শুরু হয়েছে ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’ ও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাকরি মেলা।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া দিনব্যাপী এ আয়োজনে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য ৪৩০টিরও বেশি চাকরির সুযোগ নিয়ে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশে কার্যরত ৩১টি চীনা প্রতিষ্ঠান। অবকাঠামো, প্রযুক্তি, উৎপাদন, বিমান চলাচল, লজিস্টিকস ও ব্যবসায়িক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে এসব চাকরির সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে। সহ-আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। সহযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশ চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন, ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ এবং আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টার।
চাকরি মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে পাওয়ার চায়না, সিএসসিইসি৭বি ডিভিশন ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড, সিসিইসিসি বাংলাদেশ লিমিটেড, হুয়াওয়ে টেকনোলজিস বাংলাদেশ লিমিটেড, এয়ার চায়না, চায়না সাউদার্ন এবং এলডিসি গ্রুপসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
মেলায় চাকরিপ্রত্যাশীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে সিভি জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন পদের যোগ্যতা, ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক বাছাই সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে পারছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্যও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এ চাকরি মেলা। ফলে তরুণ চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে এটি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও পেশাগত ভবিষ্যতের নতুন সুযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।
তবে ‘সিনো-বাংলা ডে’ কেবল চাকরির সুযোগেই সীমাবদ্ধ নয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে রয়েছে দুই দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বন্ধুত্বকে তুলে ধরার নানা আয়োজন। চীন ও বাংলাদেশের যৌথ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী সিংহ নৃত্য এবং থাই চি প্রদর্শন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।
সাংস্কৃতিক জোনে দর্শনার্থীরা চীনা ক্যালিগ্রাফি, চা পরিবেশন শিল্পসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি চীন-বাংলাদেশ ফুড জোনে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ‘সিনো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ স্কলারশিপ অ্যান্ড বার্সারি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) উদ্যোগে চীনা ভাষা শিক্ষায় কৃতিত্ব দেখানো শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ড. ইয়াং হুই বলেন, ‘সিনো-বাংলা ডে’ শুধু একটি চাকরি মেলা নয়; এটি চীনা প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের মেধাবী তরুণদের মধ্যে সংযোগ তৈরির পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার একটি সেতু। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও গভীর করার মাধ্যমে এ উদ্যোগ অভিন্ন ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখছে।
আয়োজকরা জানান, নতুন যুগে ‘চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
সূত্র—সিএমজি বাংলা।