বাংলাদেশকে দুর্যোগ সহনশীল ব-দ্বীপ হিসেবে গড়ে তুলতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের অপারেশনস ও প্ল্যানিং পরিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ আলী হায়দার সিদ্দিকী বিশেষায়িত সরঞ্জাম ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো, সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের নানা দিক নিয়েও কথা বলেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চীন শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়: দ্বিতীয় রাউন্ড টেবিল’-এর তৃতীয় পর্বের 'দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস: চীন-বাংলাদেশ অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা' অধিবেশনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী হায়দার জানান, '২০১২ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন এবং হালনাগাদকৃত এসওপির মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে। সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক ও উপকূলীয় পোল্ডার কাঠামোর কারণে ঐতিহাসিকভাবে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে ভূকিম্পের মতো বড় দুর্যোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখনও সরঞ্জাম, আধুনিক পূর্বাভাসব্যবস্থা, স্যাটেলাইট, এআই এবং রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির চরম ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্যোগকালীন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।'
এসব চ্যালেঞ্জ দূরীকরণে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও গবেষণার বিষয় প্রস্তাব করেন। বিশেষ করে ঢাকার মতো মেগাসিটিতে আকস্মিক বন্যা নিয়ন্ত্রণে 'স্পঞ্জ সিটি' ধারণা, বায়ো সোয়েল এবং আরবান ওয়েটল্যান্ড তৈরির বিষয়ে আলোকপাত করেন। পাশাপাশি তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, জয়েন্ট হাইড্রোলজিক্যাল পূর্বাভাস ও নদী তীর রক্ষায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহায়তার আহ্বান জানান। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক 'ডিআরইই' অনুশীলনের আদলে সিভিল-সামরিক দুর্যোগ সাড়াদান প্রশিক্ষণে চীনের সাথেও যৌথ অনুশীলনের প্রস্তাব রাখেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ আলী হায়দার সিদ্দিকী।
সূত্র: সিএমজি