একটি উঠানে পাত্রে ফুটছে দুধ চা। আর সেখানে হাতে কাপ নিয়ে একত্রিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসময় তারা রাস্তার নষ্ট বাতি, সংস্কারের প্রয়োজন এমন কোনো রাস্তা বা পাড়ার অন্যান্য ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।
ইলির কাজাখ স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচারের ইয়িনিং শহরের খুনছি মাইলি কমিউনিটিতে উইগুর, হান, হুই, কাজাখ, মঙ্গোল ও উজবেকসহ নয়টি জাতিগোষ্ঠীর ২ হাজার ১০০-এর বেশি বাসিন্দা বসবাস করেন।
জনপ্রিয় স্থানীয় পানীয় তাদের মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধন হয়ে উঠেছে। এই ‘দুধ চা বৈঠক’ আনুষ্ঠানিক ও একঘেয়ে সভার বিকল্প হয়ে উঠেছে। এখানে বাসিন্দারা স্বচ্ছন্দ পরিবেশে এক কাপ চা হাতে নিয়ে নিজেদের মতামত ও সমস্যার কথা বলতে পারেন।
জুলাইয়ের শেষ দিকে এমনই একটি বৈঠকে নিয়মিত অংশ নেওয়া বাসিন্দা বাতনাসুন বাদমা গ্রীষ্মের ছুটিতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘গরম থেকে বাঁচতে অনেক শিশু কাছের নদীতে সাঁতার কাটে। এটি বেশ বিপজ্জনক।‘
এ সমস্যা কমিউনিটি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। পরে বাতাস ভরে প্রস্তুত করা যায় এমন একটি প্লাস্টিকের সুইমিং পুল কিনে স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি কলেজ শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা শিশুদের দেখাশোনা ও পড়াশোনায় সহায়তা করছেন। এতে শিশুরা নিরাপদ ও আনন্দময় গ্রীষ্ম কাটাতে পারছে।
কারও কারও জন্য এই চা বৈঠক ব্যবসার সুযোগও তৈরি করছে। স্থানীয় কারুশিল্পী আবদুখুকুর আবদুকাদির একটি সমস্যায় ছিলেন। তার হাতে তৈরি চামড়ার বুটের মান ভালো হলেও পর্যটন মৌসুমে নিয়মিত পর্যটক আসার পরও বিক্রি বাড়েনি। বৈঠকে প্রতিবেশীরা তাকে বুটগুলোকে স্মারক চাবির রিংয়ে রূপান্তরের পরামর্শ দেন। স্থানীয় লাউচিত্র শিল্পী জুলায়াত নুরাত তাকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন।
জুলায়াত নুরাত তার ঐতিহ্যবাহী লাউচিত্র শিল্পের আরও ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান। কমিউনিটি দ্রুত উদ্যোগ নেয়। সরকারি প্ল্যাটফর্মে তার শিল্পকর্মের প্রচার করা হয়। পাশাপাশি তাকে বিনাভাড়ায় ৩০ বর্গমিটারের একটি স্টুডিও দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি সত্যিই আমাদের কাজকে গুরুত্ব দেয়।‘
কমিউনিটির পার্টি শাখার প্রধান নিজাত পারহাত জানান, ২০২৩ সালে দুধ-চা বৈঠক শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতি মাসে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সব জাতিগোষ্ঠীর বাসিন্দাদের সঙ্গে বসতে চেয়েছিলাম। তাদের সমস্যা ও উদ্বেগের কথা শুনে সেগুলো সমাধানে সহায়তা করতে চেয়েছিলাম, যাতে তারা আরও ভালো পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।‘
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ইয়িনিংয়ের ২৪টি টাউনশিপ ও উপজেলায় ৪ হাজার ২৬০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাসিন্দারা ১ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ বার অংশ নিয়েছেন। এ সময় ২ হাজারের বেশি পরামর্শ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রা-সংক্রান্ত প্রায় ১ হাজার সমস্যা সমাধান করা হয়েছে।
এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সিচাংয়ে সীমাবদ্ধ নয়। পূর্ব চীনের ফুচিয়েন প্রদেশের উয়িশান কাউন্টি-স্তরের শহরের উফু টাউনশিপে স্থানীয় গণকংগ্রেস একটি প্রাচীন সড়কে চা পান করার একটি জায়গা তৈরি করেছে। সেখানে বাসিন্দাদের চা পান করতে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে নিজেদের মতামত ও উদ্বেগ জানাতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
চীনজুড়ে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক শাসনব্যবস্থার একটি মডেল ‘ফেংছিয়াও অভিজ্ঞতা’ প্রচার করা হচ্ছে। ১৯৬০-এর দশকে পূর্ব চীনের চেচিয়াং প্রদেশের ফেংছিয়াও টাউনশিপে এই মডেলের সূচনা হয়।
এই মডেলের অধীনে সামাজিক বিরোধ স্থানীয় পর্যায়েই মানুষের নিজেদের মধ্যে সমাধান করা হয়। বিষয়গুলো উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে না নিয়েই স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়।
সূত্র: সিএমজি বাংলা