‘অতীতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে সামান্যই সংযোগ ছিল। পরে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকেই জাতীয় নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়। পর্যটন, বাণিজ্য, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, শিক্ষা—সবকিছুকেই জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এটি বাড়াবাড়ি হয়ে গিয়েছিল।’
একটি স্থিতিশীল, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বিশ্বের জন্য কী অর্থ বহন করে?—এ প্রশ্নের জবাবে এমনটা বলেছেন ইউএস-চায়না বিজনেস কাউন্সিল বা ইউএসসিবিসির সভাপতি শন স্টেইন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রাক্কালে চায়না মিডিয়া গ্রুপকে (সিএমজি) একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।
ইউএসসিবিসি একটি বেসরকারি বাণিজ্য সংগঠন, যা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠারও আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখন সংগঠনটির সদস্য হিসেবে চীনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রায় ২৭০টি মার্কিন কোম্পানি। এসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি, অর্থায়ন, উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করছে।
সাক্ষাৎকারে শন স্টেইন বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুক্তিসংগত ভারসাম্যের ভিত্তিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা বলতে কী বোঝায় এবং কী বোঝায় না, তা স্পষ্ট করতে চাই। আমরা উভয় সরকারকেই স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে, জাতীয় নিরাপত্তার সংজ্ঞা হওয়া উচিত সংকীর্ণ ও স্বচ্ছ। এটিও পারস্পরিক আস্থা তৈরির একটি উপায়।’
স্টেইন আরও বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, একটি স্থিতিশীল মার্কিন-চীন সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্যই উপকারী নয়, বরং তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও নিশ্চয়তা নিয়ে আসে।’
তিনি বলেন, ‘আসিয়ানভুক্ত দেশ, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশ, ইউরোপীয় দেশ কিংবা লাতিন আমেরিকার দেশ—সব দেশই যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ের সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে, তা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দেশই কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে চায় না কিংবা কোনো নির্দিষ্ট শিবিরে জড়িয়ে পড়তে চায় না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—উভয় দেশের সঙ্গেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বার্থ জড়িত।’
শন স্টেইন বলেন, ‘একটি স্থিতিশীল ও অনুমানযোগ্য মার্কিন-চীন সম্পর্ক বজায় রাখা গেলে বিভিন্ন দেশ স্বাধীনভাবে নিজেদের স্বার্থ অনুসরণ করতে পারে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ের সঙ্গে আরও গভীর সম্পৃক্ততার সুফল ভোগ করতে পারে।’
সূত্র: সিএমজি