আগস্ট ১৭, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চিকিৎসা খাতে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে চীন। উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ চিকিৎসক ও বিদেশি রোগীদের জন্য সহজতর সেবাব্যবস্থায় দেশটি এখন আন্তর্জাতিক চিকিৎসা ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ নানা দেশ থেকে ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা নিতে চীনে আসছেন। স্বল্প খরচে আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি ভিসা সহায়তা ও চিকিৎসাপরবর্তী সেবাও আকর্ষণ বাড়াচ্ছে বিদেশিদের।
আপস…
ইন্দোনেশিয়া থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চীনের কুয়াংচৌয় এসেছেন রোনাল্ড। নিজ দেশে চিকিৎসার সুযোগ সীমিত থাকায় উন্নত চিকিৎসার আশায় ছুটি এসেছেন তিনি। চিকিৎসার প্রথম ধাপ শেষ করে এখন সুস্থতার পথে তিনি। রোনাল্ডের মতো আরও অনেক বিদেশি রোগী চিকিৎসার জন্য এখন বেছে নিচ্ছেন চীনকে।
উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বিদেশি রোগীর জন্য প্রশাসনিক সহায়তা বাড়ায় চিকিৎসা ভ্রমণের বড় কেন্দ্র হয়ে উঠছে চীন। তেমনি দক্ষিণ চীনের কুয়াংতোং প্রদেশের কুয়াংচৌ ক্যানসার চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে এসেছে, বিদেশি রোগীর চিকিৎসা দেওয়া দেশটির প্রধান হাসপাতালগুলোয় গেল বছর বিদেশি রোগী ছিল ১২ লাখ ৮০ হাজার। তিন বছরে এই সংখ্যাটা বেড়েছে ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফেং সিয়াওছি জানান, গেল এক দশকে তার হাসপাতালে বিদেশি রোগী উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। তাদের বড় অংশই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রোগী। রোনাল্ডের চিকিৎসায় ইন্টারভেনশনাল থেরাপি ও ক্রায়োঅ্যাবলেশন পদ্ধতির সমন্বয় করা হয়েছে।
রোনাল্ড বলেন, ‘হ্যাঁ, চিকিৎসাটা খুব ভালো এবং চমৎকার। এখনকার চিকিৎসক খুবই ভালো। আর তারা আমাকে খুব ভালোভাবেই সাহায্য করেছেন। গেল সপ্তাহে আমার প্রথম চিকিৎসা হয়, যেটা একটু কষ্টদায়ক ছিল কিন্তু কয়েক দিনের জন্য ছিল এবং এখন একটু ভালো হচ্ছে। তাই আগামী সপ্তাহেও চলবে।’
চিকিৎসক ফেং জানান, চিকিৎসার প্রথম ধাপের ফলাফল ইতিবাচক। রোনাল্ডের পরিবারও হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা খুশি। এদিকে, চিকিৎসক ইয়াং চিগুও জানিয়েছেন, তার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং ক্ষতস্থানগুলো পুরোপুরি চিকিৎসা করা সম্ভব হয়েছে।
বিদেশি রোগীদের সেবা আরও সহজ করতে গেল সম্প্রতি ১২টি সহায়ক উদ্যোগ ঘোষণা করেছে কুয়াংচৌ। চালু করা হয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা পর্যটন সেবা কেন্দ্র। যেখানে ভিসা সহায়তা, দূরবর্তী চিকিৎসা পরামর্শ ছাড়াও চিকিৎসাপরবর্তী সহায়তা রয়েছে।
সানব্রাইট গ্রুপের সভাপতি ওয়াং ওয়েনশেং বলেন, ‘রোগীর চীনে আসার আগের মূল্যায়ন থেকে হাসপাতাল ছাড়ার পর ফলোআপ পর্যন্ত পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। ফলে, বিদেশি রোগীদের কাগজপত্রের জটিলতাও কমছে।’
আর, এভাবেই চীন স্বল্প খরচে আধুনিক চিকিৎসার ভরসার জায়গা হয়েছে উঠছে বিশ্বে।
লুৎফর/হাশিম
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি