জুলাই ১১, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেছেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এমনভাবে এগিয়ে নিতে হবে, যেন দুই দেশের সমাজতান্ত্রিক উন্নয়ন এবং আধুনিকায়ন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করে।
শুক্রবার বেইজিংয়ে উত্তর কোরিয়ার মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী পাক থে সং-এর সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন সি চিন পিং।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের ভিত্তি হলো দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব, সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা। চীন-উত্তর কোরিয়া মৈত্রী, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনগত ভিত্তি তৈরি করেছে।’
তিনি আরও বলেন, চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকীকে সামনে রেখে তিনি ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই বন্ধুত্বের মূল্যবোধ তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে অস্থির ও দ্রুত পরিবর্তনশীল উল্লেখ করে সি বলেন, দুই দেশকে কৌশলগত দৃঢ়তা ও পারস্পরিক আস্থা আরও জোরদার করতে হবে। দুই নেতার অর্জিত ঐকমত্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সময়োপযোগীভাবে এগিয়ে নিতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।
সি আরও বলেন, উভয় দেশকে সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন-স্বার্থ রক্ষায় কৌশলগত সমন্বয় জোরদার করতে হবে এবং নিজ নিজ জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাজতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
বৈঠকে পাক থে সং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শুভেচ্ছা বার্তা সি চিনপিংয়ের কাছে পৌঁছে দেন। বলেন, কিম জং উন চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনা জনগণের নেতৃত্বে সি চিনপিংয়ের অব্যাহত সাফল্য কামনা করেছেন।
পাক বলেন, চীন-উত্তর কোরিয়া মৈত্রী চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য একটি শক্তিশালী আইনগত ভিত্তি তৈরি করেছে। চুক্তির চেতনায় দুই দেশ সমাজতান্ত্রিক উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি আবারও প্রমাণ করেছে যে, পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও চীন-উত্তর কোরিয়ার বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং এর কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
প্রতিবেদক- আফরিন মিম
তথ্য ও ছবি: সিএমজি বাংলা