২০২৬ সালের এপেক বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন গতকাল (শনিবার) চীনের সুচৌ শহরে শেষ হয়েছে।সম্মেলন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েন থাও জানান, এবারের সম্মেলনে অংশ নেওয়া সব পক্ষ এপেক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে স্বার্থের 'সর্বোচ্চ সাধারণ গুণক' খুঁজে বের করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে।
এর মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও ঐক্যমত অর্জিত হয়েছে, যা বছরের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া 'এপেক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সম্মেলনের' জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক অবদান রাখবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং উল্লেখ করেন, বিশ্ব বাণিজ্যের উন্নয়নে ডব্লিউটিও-এর নীতিমালা যে মূল চাবিকাঠি, সে বিষয়ে সব দেশ একমত হয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে, এর কার্যকারিতা ও নিয়মকানুনকে আরও উন্নত করতে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডব্লিউটিও-এর কার্যকারিতা বাড়াতে এপেক-কে একটি বৈচারিক 'আইডিয়া ইনকিউবেটর' বা চিন্তার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সম্মেলনে সব পক্ষ "এপেক উদ্ভাবনী, প্রতিযোগিতামূলক এবং স্থিতিস্থাপক সেবা খাত রোডম্যাপ" অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনায় মূলত আটটি প্রধান ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সেবা খাতের নীতিগত উদ্ভাবন ও সংস্কার অব্যাহত রাখা এবং একটি উন্মুক্ত ও অনুমানযোগ্য সেবা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা, যা আগামী ১০ বছরের জন্য বৈশ্বিক সেবা খাতের উন্নয়নের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করবে।
এ ছাড়া, ডিজিটাল বাণিজ্যের পরিধি ও সহযোগিতা বাড়াতে এবারের সম্মেলনে একটি নতুন ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আঞ্চলিক বাণিজ্য ডিজিটালাইজেশন সহযোগিতার একটি রূপরেখা দলিলের বিষয়ে অংশগ্রণকারী দেশগুলোর মধ্যে গভীর আলোচনা হয়েছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।সূত্র: সিএমজি বাংলা