Saturday, August 1, 2026
Live

৩১শে জুলাই জাপানের নবপ্রতিষ্ঠিত ‘জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার’ উদ্দেশ্য কী?

সিএমজি
সিএমজি ডেস্ক সম্পাদক
Published: Updated:
৩১শে জুলাই জাপানের নবপ্রতিষ্ঠিত ‘জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার’ উদ্দেশ্য কী?

জাপানি সামরিক আগ্রাসনের শিকার দেশগুলোর জন্য, ‘৩১শে জুলাই’ অগণিত যুদ্ধাপরাধের প্রতীক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার ৮১ বছর পর, ৩১শে জুলাই জাপান সরকারের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় গোয়েন্দা ব্যুরো’ প্রতিষ্ঠা এবং প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সভাপতিত্বে প্রথম ‘জাতীয় গোয়েন্দা সম্মেলন’ আয়োজনের পেছনের আসল উদ্দেশ্য কী?- এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম জাপান একটি জাতীয়-স্তরের সমন্বিত গোয়েন্দা-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করল। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার আড়ালে জাপান সরকার তার গোয়েন্দা সক্ষমতাকে একীভূত ও শক্তিশালী করতে, যুদ্ধকালীন কেন্দ্রীভূত গোয়েন্দা কাঠামোর অনুকরণ করতে, সামরিকবাদের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করতে এবং তার সামরিক শক্তি সম্প্রসারণের বিপজ্জনক উদ্দেশ্য সাধন করতে চায়; যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বাস্তব হুমকি।

এই ‘নতুন যুদ্ধ-পূর্ববর্তী গোয়েন্দা-ব্যবস্থা’ জাপানের ঐতিহাসিক সামরিক গোয়েন্দা-ব্যবস্থার সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, জাপানের যুদ্ধকালীন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জোরপূর্বক ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সামরিকবাদ পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। এখন, ‘জাতীয় গোয়েন্দা সম্মেলনকে’ কেন্দ্র করে এবং ‘জাতীয় গোয়েন্দা ব্যুরোকে’ নির্বাহী সংস্থা হিসেবে নিয়ে একটি গোয়েন্দা-ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা সামরিকবাদী গোপন পুলিশ শাসনের পুনরুত্থানকে নির্দেশ করে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, নবপ্রতিষ্ঠিত জাতীয় গোয়েন্দা ব্যুরোর কার্যক্ষেত্রের সীমানা অস্পষ্ট এবং এর কার্যত কোনো বাহ্যিক তদারকি ব্যবস্থা নেই। এর অর্থ হলো, অনিয়ন্ত্রিত গোয়েন্দা ক্ষমতা ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের রাজনীতিকে প্রভাবিত করার একটি হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে, যা জাপানে চিন্তার নিয়ন্ত্রণ এবং দমনমূলক নিয়ন্ত্রণের অন্ধকার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।

জাপান সরকারের জন্য, ‘জাতীয় গোয়েন্দা ব্যুরোর’ প্রতিষ্ঠা করা কেবল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার বিষয় নয়, বরং এটি সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করার একটি বিষয় এবং এটি পুনঃসামরিকীকরণের একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ার মূল সংযোগ।

টানা ১৪ বছর ধরে প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি করে ২০২৬ অর্থবছরে তা রেকর্ড পরিমাণ ৯.০৪ ট্রিলিয়ন ইয়েন ছাড়িয়ে যাওয়া, ‘একচেটিয়া প্রতিরক্ষা’ নীতি পরিত্যাগ করা, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং অস্ত্র রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ব্যাপকভাবে শিথিল করা; ঘন ঘন বহুজাতিক যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ এবং বিদেশে সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে কথা বলা এবং ‘তিনটি পারমাণবিক-অস্ত্র নীতি’ বিলুপ্ত করার চেষ্টা পর্যন্ত—জাপান ক্রমাগত তার শান্তিবাদী শাসনের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সমাজকে অবশ্যই অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যে, জাপানের এই ‘নতুন ধরনের সামরিকবাদের’ বিস্তার ও সম্প্রসারণ রোধে একাধিক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের ফলাফলকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে হবে বলে মনে করে সিএমজি সম্পাদকীয়।

সূত্র: সিএমজি

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

ডেস্ক সম্পাদক

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Featured Products

View All

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.