চীনের অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ চিয়াংশু। প্রদেশটি তার আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তনের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি উন্মুক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন কৌশল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
সরকারি তথ্যমতে, ২০২৫ সালে চিয়াংসুতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪০০টিরও বেশি কোম্পানি এ প্রদেশে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রদেশের গভর্নর লিউ সিয়াওথাও বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০২৫ সালে চিয়াংসুর অর্থনীতির আকার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে। মাথাপিছু জিডিপিও পৌঁছেছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ইউয়ানে, যা চীনের সব প্রদেশ ও অঞ্চলের মধ্যে শীর্ষে।
গভর্নর বলেন, ১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়কালে প্রদেশটিতে উচ্চপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৮৫ শতাংশ। এ ছাড়া টানা আট বছর বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও প্রথম স্থানে রয়েছে প্রদেশটি।
চিয়াংসুর প্রাদেশিক বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক শি ইয়োং বলেন, এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির মধ্যেও চিয়াংসুর দরজা আরও উন্মুক্ত হবে।
তার মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চিয়াংসুর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে।
চিয়াংসুর প্রাদেশিক রাজধানী নানচিংয়ে অবস্থিত নানচিং চিয়াংবেই নতুন অঞ্চলটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নের সফল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।
বিশেষ করে জৈব-ওষুধ শিল্পে এখানে চিকিৎসা সরঞ্জামের লাইসেন্স এক কর্মদিবসেই অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ব্যবসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘একটি কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন’ ধরনের সংস্কারও চালু হয়েছে। পাশাপাশি চালু হয়েছে ‘সরাসরি উপস্থিতি ছাড়া অনুমোদন’ ব্যবস্থা।
চিয়াংসুর উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের পরিচালক চু আইসুন বলেন, ১৫তম পঞ্চবার্ষিক সময়কালে ‘সংস্কার, সেবা ও আইনের শাসন’-এই তিন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ব্যবসা পরিবেশ আরও উন্নত করা হবে।
তিনি জানান, এ লক্ষ্যে ‘নিষেধ না থাকলে প্রবেশের সুযোগ’ ভিত্তিক বাজার প্রবেশ ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে ন্যায্য প্রতিযোগিতার প্রতিবন্ধকতা দূর হয় এবং একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় বাজার গড়ে ওঠে।
সরকারি সেবা সহজ করা, ব্যবসার খরচ কমানো এবং সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে আইনি সুরক্ষা দিতে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে, যাতে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয় এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
সূত্র: সিএমজি