বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা জোরদারে চীন গভীর সম্পর্কের দ্বার উন্মুক্ত করবে এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা এগিয়ে নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়িক নেতারা।
এপেকভুক্ত অর্থনীতিগুলোর প্রায় ৭০০ প্রতিনিধি শুক্রবার চিয়াংসু প্রদেশের সুচৌতে দুই দিনব্যাপী ৩২তম এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের (এপেক) বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকটি শুক্রবার শুরু হয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনার মূল বিষয় হবে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীকরণ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে (ডাব্লিউটিও) সমর্থন এবং ডিজিটাল রূপান্তর ও সবুজ উন্নয়নে সহযোগিতা।
বৈঠকের আগে বেইজিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনথাও বলেন, চীন মনে করে যে, এই সহযোগিতার দ্বার উন্মোচন বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা রক্ষা, সংরক্ষণবাদ ও বাণিজ্য বাধার বিরোধিতা এবং আরো বিস্তৃত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।
শুক্রবার বৈঠকের উদ্বোধনী অধিবেশনে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিনিধি লি ছেংকাং বলেন, ঐতিহ্যগত প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি থেকে নতুন প্রবৃদ্ধির উৎসে রূপান্তরের সময় অঞ্চলটিকে পথ দেখানো এবং একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন নিশ্চিত করা এপেকভুক্ত সব অর্থনীতির অভিন্ন দায়িত্ব।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীন ছিল এপেকভুক্ত ১৩টি অর্থনীতির বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। ওই অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ পৌঁছায় ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া চীন এপেকভুক্ত অর্থনীতিগুলো থেকে ৯০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে এবং সেখানে ১৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক লিন ফেং বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এখন আরও জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
সিঙ্গাপুরে অবস্থিত এপেক সচিবালয়ের নীতি সহায়তা ইউনিটের পরিচালক কার্লোস কুরিয়ামা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা, বাণিজ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এপেকভুক্ত অর্থনীতিগুলোর যৌথ প্রচেষ্টা এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং অত্যাবশ্যক।
বিদেশি ও চীনা কোম্পানির নির্বাহীরা বলেন, আরও গভীর আঞ্চলিক একীকরণ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করছে এবং আন্তঃসীমান্ত শিল্প সহযোগিতা ত্বরান্বিত করছে।
সাকিব/নাহার
তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি