স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চীন সফর করেছেন। ২৩ বছর পর এটি কোনো স্লোভাক প্রেসিডেন্টের চীনে রাষ্ট্রীয় সফর, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিএমজি-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, দশ বছরেরও বেশি আগে চীনে প্রথম আসার সময় থেকে আজ পর্যন্ত তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন কীভাবে চীন হার্ডওয়্যার নির্মাণ ও সফট সংযোগে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে—এটি অত্যন্ত শিক্ষণীয়। তিনি আরও বলেন, স্লোভাকিয়া চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত মূল্যবান মনে করে এবং আশা করে যে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিক্স খাতে আরও বেশি সহযোগিতামূলক ফলাফল অর্জিত হবে, যা উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে আসবে।
তিনি বলেন, তিনি চীনের বিশাল পরিবর্তন দেখেছেন এবং মনে করেন এই পরিবর্তনগুলো দুটি ক্ষেত্রে বিভক্ত: প্রথমত, হার্ডওয়্যার পরিকাঠামো—চীন সড়ক, সেতু, রেলপথ ও হাই-স্পিড ট্রেনসহ বিপুল পরিকাঠামো নির্মাণ করেছে। দ্বিতীয়ত, সফটওয়্যার ক্ষেত্র—যেখানে নতুন প্রযুক্তি দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন পরিকল্পনা প্রণয়ন সঠিক উন্নয়ন পদ্ধতি। তারা সবসময় চীনের পরিকল্পনা ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা ও অনুসরণ করছে এবং বর্তমানে স্লোভাক সরকার ‘স্লোভাকিয়া ভিশন ২০৪০’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বিশ্বাসযোগ্য প্রযুক্তিতে পরিণত করতে এর নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সব বয়সের মানুষের কাছে এআইকে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে এটি জীবনকে সহজ করে, কষ্ট না বাড়ায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—শুধুমাত্র বিশ্বের কোনো একক ব্যক্তি বা কোনো একটি দেশের সরকার একতরফাভাবে ব্যবহারের অধিকার নির্ধারণ করবে না, যাতে একদল মানুষ এআই ব্যবহার করতে পারে আর অন্যদল পারে না। তিনি সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্ব এআই সম্মেলন ও এআই গ্লোবাল গভর্নেন্স হাই-লেভেল মিটিং-এ মূল বক্তব্য দিয়েছেন। নতুন প্রযুক্তি যেন বিশ্বের বৈষম্য বাড়াতে না পারে, সেজন্য তিনি সম্পূর্ণ সমর্থন জানান যে আমাদের এআই শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যা সত্যিকার অর্থে সমগ্র বিশ্ব—তৃতীয় বিশ্ব ও অনুন্নত দেশগুলোর জন্যও সেবা প্রদান করবে।
তিনি বলেন, স্লোভাকিয়া সবসময় ইইউ-চীন সংলাপ ও যোগাযোগ বজায় রাখার পক্ষে। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন মতপার্থক্য ও ছোটখাটো বিরোধ সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, বিচ্ছিন্নতা বা সংঘাতের দিকে যাওয়া উচিত নয়। শুধুমাত্র সহযোগিতার মাধ্যমেই সমাধান পাওয়া সম্ভব এবং পারস্পরিক সুবিধা অর্জন সম্ভব—সংঘাত কোনো কাজের পথ নয়। আমাদের সংঘাত এড়িয়ে চলতে হবে। বাস্তবে আমরা চীন-ইইউ উভয়ের জন্যই পারস্পরিক লাভজনক পথ খুঁজে বের করতে পারি। ভবিষ্যতে স্লোভাকিয়া চীনের ইইউ-তে বিনিয়োগের জন্য একটি ‘নিরাপদ দ্বীপ’ হিসেবে কাজ করতে পারে, কারণ আমাদের দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং স্লোভাকিয়া চীনা উদ্যোগগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সরবরাহ করতে পারে।
সূত্র: সিএমজি