জেনারেটিভ এআই নিয়ে চীনের দৃষ্টিভঙ্গি আর কেবল প্রযুক্তির উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়াতেই নেই। এখন তা ব্যবহারিক প্রয়োগ ও সার্বিক নিয়ন্ত্রণের ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। নতুন এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। মঙ্গলবার চীনা ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন কেন্দ্রের নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন এ তথ্য তুলে ধরেছে।
গত এক বছরে চীন জেনারেটিভ এআই সংক্রান্ত নীতিমালা আরও পরিমার্জন করেছে। জেনারেটিভ এআই বলতে এমন এআই-ব্যবস্থা বোঝায় যা লেখা, ছবি, সংগীত ও ভিডিওর মতো মৌলিক কনটেন্ট তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রয়োগ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা— এই দুই দিকেই অগ্রগতি হয়েছে।
প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের সময় বিভাগের প্রধান ওয়াং চাংছিং এআই উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘চীনে এআই ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এ কারণে ২০২৫ সালের জুন থেকে চীনা কর্তৃপক্ষ এআই সংক্রান্ত প্রায় ২০টি বিধিবিধান প্রণয়ন করেছে।‘
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত চীনে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ কোটি ছাড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ৯ কোটি ৮০ লাখ বেশি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রায় ৭৬ শতাংশ মূলত প্রশ্নের উত্তর পেতে এআই ব্যবহার করেন। এর পর রয়েছে ছবি, ভিডিও ও লেখা প্রক্রিয়াকরণ এবং সভার সারসংক্ষেপ তৈরির মতো কাজ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনে এআই লার্জ মডেল, এআই এজেন্ট, রোবোটিকস ও সংশ্লিষ্ট খাতে কাজ করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০ হাজার ৭৪০টি। কৃষি, শিল্প উৎপাদন, প্রোগ্রামিং, অফিসের কাজ, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তির ব্যাপক প্রয়োগ হচ্ছে।
প্রযুক্তির সর্বোচ্চ মূল্য নিশ্চিত করা এবং এআইয়ের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওয়াং চাংছিং বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনসহ বেশ কয়েকটি কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ খাতে এআই সংযুক্ত করার জন্য নির্দেশিকা তৈরি করেছে। উদাহরণ হিসেবে, শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বয় নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে, যার লক্ষ্য এআই উন্নয়নের অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা।‘
সুস্থ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন উৎসাহিত করতে এআই সংক্রান্ত নীতিমালায় অগ্রগতির প্রশংসা করলেও চেং বলেন, ‘এআই খাতে নজরদারি জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব স্পষ্ট করতে আরও কার্যকর বিধিবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন। এর মধ্যে এআইয়ের উন্নয়নকারী, পরিচালনাকারী ও ব্যবহারকারীদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে এআই নিয়ন্ত্রণের একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
এআই নির্মিত ডিপফেকের কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং শিশুদের ক্ষতিকর এআই নির্মিত কনটেন্ট থেকে সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নেরও আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: সিএমজি