ফয়সল আবদুল্লাহ
গবেষণাগার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে চীনের চিয়াংসু প্রদেশের সুচৌ শহর এখন গবেষণা থেকে বাণিজ্যিক প্রয়োগ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভাবন শৃঙ্খল গড়ে তুলেছে।
সুচৌর উচিয়াং জেলার একটি প্রযুক্তি পার্কে সম্প্রতি অপটিক্যাল ফাইবার-সজ্জিত একটি স্বয়ংচালিত গাড়ির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। তামার তারের তুলনায় অপটিক্যাল ফাইবার হালকা, দ্রুত এবং উচ্চ ব্যান্ডউইথ ও কম লেটেন্সির সুবিধা দেয়। এতে ক্যামেরা ও লিডার সেন্সরের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করে নির্ভুলভাবে প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করতে পেরেছে স্মার্ট গাড়িগুলো।
অপটিক্যাল ফাইবার প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার খুঁজে বের করতেও এখানকার শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে কাজ করছে।
চিয়াংশু হেংথোং অপটোইলেকট্রনিক্স-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক সুয়ান ছুয়ানউ, ‘আমরা নতুন প্রয়োগক্ষেত্র ও গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। বুদ্ধিমান যানবাহনের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার প্রয়োজন, আবার যানবাহনে এর ব্যবহার বাড়লে প্রযুক্তিটির প্রয়োগ ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হয় এবং স্মার্ট ড্রাইভিং প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি বাড়ে।’
সুচৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গে পারমাণবিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, সমুদ্রতলের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অগ্রসর প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গবেষকরা বলছেন, বিকিরণ-প্রতিরোধী অপটিক্যাল ফাইবার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্কুল অব ইলেকট্রনিক ইনফরমেশনের পরিচালক শ্যন কাংসিয়াং, ‘এই প্রযুক্তি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রয়োগের পরিকল্পনা করছি। এমন পরিবেশে অপটিক্যাল ফাইবারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর রয়েছে উচ্চ বিকিরণ-প্রতিরোধ ক্ষমতা।’
গত মাসে সুচৌর বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে একটি প্রযুক্তি রূপান্তর কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে, যার লক্ষ্য গবেষণার ফল দ্রুত বাজারে পৌঁছে দেওয়া।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে এখন পুরো শিল্পশৃঙ্খলকে যুক্ত করে বৃহৎ সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।
এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলও দৃশ্যমান। বর্তমানে সুচৌর অপটিক্যাল যোগাযোগ শিল্পের বাজারমূল্য শত বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে এবং এখানে ৫০টিরও বেশি উদ্ভাবনী জোট গড়ে উঠেছে।
সুচৌ ছাংকুয়াং হুয়াসিন সেমিকন্ডাক্টর লেজার উদ্ভাবনী গবেষণা কেন্দ্রের উপপরিচালক লি শুনফেং জানালেন, ‘বাজারে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এজন্য আমরা অপটিক্যাল চিপ উৎপাদনে আরও বেশি সক্ষমতা যুক্ত করছি এবং গবেষণা ও উৎপাদন দল সম্প্রসারণ করছি।’
প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের জন্য ৮০০জি এবং ১ দশমিক ৬ টেরাবিট সক্ষমতার উন্নত অপটিক্যাল চিপের উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক ধাপ সম্পন্ন করেছে।
অপটিক্যাল যোগাযোগ খাতের পাশাপাশি এআই-নির্ভর অপটিক্যাল পরিদর্শন যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতেও চাহিদা বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। সেই সঙ্গে বেড়েছে ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য নতুন প্রজন্মের অপটিক্যাল ফাইবার পণ্যের চাহিদা।
সূত্র: সিএমজি