Thursday, July 2, 2026
Live

১০৫ বছরের অভিযাত্রায় সংগ্রাম থেকে শিখরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি

সিএমজি
সিএমজি বাংলা বিভাগ
Published: Updated:
১০৫ বছরের অভিযাত্রায় সংগ্রাম থেকে শিখরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি

জুলাই ১, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। সুদীর্ঘ সময়ের লড়াই-সংগ্রাম আর সফলতার ইতিহাসে সমৃদ্ধ এই রাজনৈতিক দল। সিপিসি’র এই মহাযাত্রাপথে নিজের কিছু বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন দার এস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং চীনা অধ্যয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হামফেরি পি. বি. মোশি। তার লেখার সংক্ষেপিত অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত সিপিসি ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির একমাত্র ক্ষমতাসীন দল হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। গত ১০৫ বছরে চীনা সমাজ নানামাত্রিক ক্ষেত্রে অসাধারণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। চীন নিজস্ব বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সমাজতন্ত্রের নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, চরম দারিদ্র্য দূর হয়েছে এবং সর্বক্ষেত্রে একটি মধ্যম সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জন করেছে।

এগুলো নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন মাইলফলক, সাফল্য ও ঐতিহাসিক অর্জন। তবে এসব অর্জনে থেমে না থেকে সিপিসি এখন নতুন যাত্রা শুরু করেছে। অক্টোবর ২০২২-এ অনুষ্ঠিত সিপিসির ২০তম জাতীয় কংগ্রেসে উত্থাপিত ‘চীনা ধাঁচের আধুনিকায়ন’ ধারণা দ্বিতীয় শতবর্ষের লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে চীনকে একটি মহান আধুনিক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

এই নতুন যাত্রায় সিপিসির নেতৃত্বই চীনা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সমাজতন্ত্রের নির্ধারক বৈশিষ্ট্য হিসেবে বহাল থাকবে। তাই আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জাতীয় পুনর্জাগরণ এবং জনগণের কল্যাণে দলটির অবদানও টেকসই থাকবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিং পিং সবসময় জনগণের চাহিদা পূরণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। মানুষের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখা—এটাই বরাবরই চীনের উন্নয়ন কৌশলের মূল ভিত্তি।

দ্বিতীয়ত, উচ্চমানের উন্মুক্তকরণ, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ এবং চীন-আফ্রিকা সহযোগিতা ফোরামের মতো সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মের টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় বিশ্বায়ন ও বহুপক্ষবাদের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অটুট থাকবে।

তৃতীয়ত, আধুনিকায়ন চীনের সব উন্নয়ন অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দু। অর্থাৎ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিবর্তনশীল বাস্তবতার ভিত্তিতে চীনের উন্নয়ন পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে এই উন্নয়ন সবসময়ই চীনা বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে। ফলে ভবিষ্যতের নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হবে একটি মৌলিক নীতি।

চতুর্থত, ভবিষ্যতেও উন্নত ও উন্নয়নশীল—উভয় ধরনের দেশের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতি দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করবে চীন। এই অঙ্গীকারের ভিত্তি হলো পারস্পরিক লাভের নীতিতে পরিচালিত বাইরের বিশ্বের প্রতি উন্মুক্ত থাকার জাতীয় নীতি।

পঞ্চমত, শান্তি ও উন্নয়নের প্রসারে চীনের অব্যাহত গুরুত্বারোপও ধারাবাহিকতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। উল্লেখ করা প্রয়োজন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে চীন কোনো আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করেনি কিংবা বিদেশি সম্পদ লুণ্ঠন করেনি।

ওপরে আলোচিত এই পাঁচটি ক্ষেত্রের পাশাপাশি বিশ্বায়ন ও বহুপক্ষবাদের প্রতি চীনের অবিচল অঙ্গীকার, সুশাসনের নীতিমালা অনুসরণ এবং কথার সঙ্গে কাজের মিল রয়েছে এমন নেতৃত্ব—এসবই আমাদের দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে উৎসাহিত করে যে, চীনের উন্নয়ন নতুন গতি অর্জন করেছে।

সাকিব/হাশিম

তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি।

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.