সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ-এর বর্তমান চীন সফর নিয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপ সিএমজি-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সার্বিয়ায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি মিং জানিয়েছেন, এই সফর চীন-সার্বিয়া সম্পর্কের উন্নয়নে এক ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এক নতুন স্তরে উন্নীত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সার্বিয়া হলো প্রথম ইউরোপীয় দেশ, যারা চীনের সঙ্গে যৌথভাবে 'নতুন যুগে অভিন্ন কল্যাণের সমাজ' গড়ে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট ভুচিচ-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে এই চীন সফর প্রমাণ করে যে, সার্বিয়া এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এর ওপর কতটা প্রত্যাশা রাখছে।
রাষ্ট্রদূত লি মিং উল্লেখ করেন, "চীন-সার্বিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষ কূটনীতি সবসময়ই মূল কৌশলগত দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করেছে। ২০২৪ সালের মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সার্বিয়ায় এক রাষ্ট্রীয় সফর করেন এবং দুই দেশ নতুন যুগে অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনের ঘোষণা দেয়। বিগত দুই বছরে এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত সুচারুভাবে এগিয়েছে এবং প্রচুর সমৃদ্ধ ফলাফল বয়ে এনেছে। প্রেসিডেন্ট ভুচিচের এবারের রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে আমরা আশা করতে পারি যে, দুই দেশের প্রতিটি খাতে পারস্পরিক কল্যাণমূলক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে, দুই দেশের জনগণের মধ্যকার 'লোহার বন্ধুত্ব' আরও গভীর হবে এবং রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এই সফরটি একটি বড় মাইলফলক।"
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সার্বিয়া অন্যতম প্রথম দেশ যারা চীনের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' উদ্যোগে শামিল হয়েছিল। একই সাথে দেশটি চীন-সার্বিয়া সহযোগিতার একাধিক 'প্রথম' এর সাক্ষী; যেমন—ইউরোপে চীনের তৈরি প্রথম মহাসড়ক, প্রথম বড় সেতু এবং প্রথম উচ্চগতির রেলপথ । এ ছাড়া, চীন-সার্বিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি ছিল মধ্য ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে চীনের স্বাক্ষর করা প্রথম মুক্তবাণিজ্য চুক্তি। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে এই চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের বাণিজ্য দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়। লি মিং-এর মতে, এবারের সফরে একগুচ্ছ নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, যা দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও উন্মোচিত করবে।
রাষ্ট্রদূত লি মিং আরও জানান যে, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতাকে প্রধানত দুটি দিকে এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে:ঐতিহ্যবাহী অবকাঠামো নির্মাণ খাত এবং উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বায়োমেডিসিন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের মতো উদীয়মান খাত।
এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে। এই দুই ক্ষেত্রেই চীন ও সার্বিয়ার অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে ব্যক্ত করে লি মিং।
সূত্র: সিএমজি বাংলা