জুলাই ৩, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সব পক্ষকে উসকানিমূলক বক্তব্য ও সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছোং।
ফু বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার নতুন পর্যায় বাহরাইন ও কুয়েতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, চীন সব সময় জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ বা শক্তি প্রয়োগের হুমকির বিরোধিতা করে।
ফু ছোং সব পক্ষকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হুমকিমূলক বক্তব্য, সামরিক দুঃসাহসিকতা এবং এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয় যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষ এবং সামরিক নয়—এমন স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ফু ছোং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন নিয়ে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় পরবর্তী দফার আলোচনা শুরু হওয়া এবং পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার প্রক্রিয়া নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোকে চীন স্বাগত জানায়।
এ বিষয়ে চীনের ৩টি প্রস্তাব উত্থাপন করেন ফু।
প্রথমত, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সুসংহত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দিয়ে সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন, আলোচনা অব্যাহত রাখা এবং উভয় পক্ষ, আঞ্চলিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমন্বিত চুক্তিতে দ্রুত পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল যত দ্রুত সম্ভব পুনঃস্থাপন করতে হবে। এই নৌপথে নিরাপদ ও অবাধ চলাচল বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি অঞ্চল ও বিশ্বের সবার অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তৃতীয়ত, আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করতে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য আর কোনোভাবেই পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বা ভূরাজনৈতিক কৌশলের শিকার হওয়া উচিত নয়।
ফু ছোং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটের রাজনৈতিক সমাধান এগিয়ে নেওয়া এবং এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে চীন।
সিএমজি বাংলা