বেইজিং, ১ জুলাই: ৯ দিনের পথচলা, তিনটি শহর। বিদেশি মানুষ, অনেক অভিজ্ঞতা আর অগণিত শেখার গল্প। সবুজ পাহাড়ে মোড়া খুনমিং, শাংহাইয়ের আকাশছোঁয়া অট্টালিকা আর বেইজিংয়ের ইতিহাস ও আধুনিকতার মেলবন্ধন। এ সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের ২২ তরুণ প্রতিনিধির কাছে চীন হয়ে উঠেছিল উন্মুক্ত শিক্ষালয়। এ ৯ দিনের ব্যতিক্রমী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার সফর শেষ করে দেশে মঙ্গলবার দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের ২২ সদস্যের তরুণ প্রতিনিধি দল। আধুনিক চীনের উন্নয়ন, রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং দু’দেশের বন্ধুত্বের নতুন সম্ভাবনাকে কাছ থেকে জানার অনন্য সুযোগ হয়ে উঠেছিল তাদের জন্য।
সফরের শেষ দিন মঙ্গলবার চায়না ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন গ্রুপ-সিআইসিজি’তে সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলে ধরা হয় এ কয়েকদিনের নানান অভিজ্ঞতা। বিদায় বেলায় অনেকে হয়ে পড়েন আপ্লুত। সবার কণ্ঠে ছিল একটি অভিন্ন প্রত্যয়- দেশে ফিরে এই অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এবং দেশের উন্নয়নের নানা ক্ষেত্রে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করা।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল ও চীনা অতিথিদের অংশগ্রহণে একটি গ্রুপ ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফটোশেসন শেষে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চায়না ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন গ্রুপ-সিআইসিজির ডেপুটি এডিটর-ইন-চিফ এবং এসিসিডব্লিউএসের সভাপতি লি ইয়াফাং। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন শাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের দক্ষিণ এশীয় গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক লিউ চৌংই।
প্রতিনিধি দলের প্রধান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক আগা মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী অংশগ্রহণকারীদের নাম ঘোষণা করেন। পরে লি ইয়াফাং ও এসআইআইএসের ভাইস প্রেসিডেন্ট লি খাইশেং বাংলাদেশি তরুণ প্রতিনিধির হাতে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সফর সফলভাবে সম্পন্নের সনদ তুলে দেন।
সনদ গ্রহণের পর শুরু হয় অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী আয়োজনে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা চীনের উন্নয়ন, প্রযুক্তি, শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তারা জানান, এই সফর শুধু নতুন একটি দেশকে জানার সুযোগই দেয়নি বরং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব, নীতি নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে অনুপ্রাণিত করেছে। এ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এসআইআইএসের ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সহকারী পরিচালক লি হংমেই।
সমাপনী বক্তব্যে প্রতিনিধি দলের প্রধান আগা মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এই সফর বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা। এ ধরনের বিনিময় কর্মসূচি দু’দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করবে ।‘
এসআইআইএসের ভাইস প্রেসিডেন্ট লি খাইশেংও ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ঢাকা-বেইজিং বন্ধুত্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নতুন প্রজন্মের ওপর। এমন বিনিময় কর্মসূচি সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এসিসিডব্লিউএসের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিসকোর্স ইনোভেশনের পরিচালক চাং চিওয়ান। ৯ দিনের এই সফর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্ক নিয়েই দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ২২জন মেধাবী তরুণের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিনিধিদল। তাদের প্রত্যাশা চীনে শেখা ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ও উন্নয়নের নানা দিক ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায়ও কোনো না কোনোভাবে অবদান রাখবে।
সূত্র: সিএমজি বাংলা।
লুৎফর/হাশিম