ফয়সল আবদুল্লাহ
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চীনের নিংসিয়া হুই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মিননিং টাউন। উন্নত স্মার্ট গ্রিড, শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শহরটি ২৪ ঘণ্টা শতভাগ সবুজ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করছে। সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা যেমন বাড়তি আয় করছেন, তেমনি অব্যবহৃত জমিতে গড়ে উঠেছে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুশক্তি প্রকল্প। স্মার্ট বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির সহায়তায় মিননিং এখন গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, জ্বালানি রূপান্তর ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর সফল মডেল হিসেবে পরিচিত।
সৌর, বায়ুশক্তি, উন্নত স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তির সমন্বয়ে মিননিং পরিণত হয়েছে একটি আধুনিক সবুজ বিদ্যুৎকেন্দ্রে। ২০২৪ সাল থেকে টাউনটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন শতভাগ সবুজ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করছে।
নিংসিয়ার প্রথম ‘গ্রিন ইলেকট্রিসিটি টাউন’ হিসেবে স্বীকৃত মিননিংয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উত্তর-পশ্চিম চীনের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়। এখানে শিক্ষার্থীরা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে শিখছে, আবার স্থানীয় প্রকল্পে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও নিচ্ছে।
নিংসিয়া লিনেং নতুন জ্বালানি কারিগরি দক্ষতা প্রশিক্ষণ স্কুলের ব্যবস্থাপক সিং বোয়েন জানান, ‘শিক্ষার্থীরা সকালে বিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক পাঠ গ্রহণ করে এবং বিকেলে কাছাকাছি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গিয়ে বাস্তব প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।’
বছরে প্রায় তিন হাজার ঘণ্টা সূর্যালোক পাওয়া যায় মিননিং এলাকায়। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও বাড়াচ্ছেন আয়।
ইউয়ানলং গ্রামের ১ হাজার ৯২২টি পরিবারের বাড়ির ছাদে স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল। এসব ছাদ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়াও দেওয়া হয়েছে।
ইউয়ানলং গ্রামের পার্টি শাখার সেক্রেটারি মা খ্যইয়ু জানালেন, ‘২০১৬ সালে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর পর থেকে গ্রামের বাসিন্দারা তাদের ছাদ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ভাড়া দিয়েছেন। এতে প্রতিটি পরিবার বছরে ৪৮০ ইউয়ান আয় করছে এবং গ্রামের সমষ্টিগত আয় ১০ লাখ ইউয়ান বেড়েছে।’
পশু পালনের কাজে লাগানো হচ্ছে সোলার প্যানেলের নিচে থাকা অনাবাদি জমিও। আবার মরুকরণের শিকার জমিগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে বায়ু টারবাইন।
রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে টাউনটিতে স্থাপন করা হয়েছে ৪০টি বড় ব্যাটারি স্টোরেজ ইউনিট, যা প্রায় ২৪ হাজার পরিবারের দৈনিক চাহিদা পূরণে সক্ষম।
ইয়িনছুয়ান পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির উপ পরিচালক ওয়াং আরছিং জানালেন, ‘সিস্টেমটি আমাদের বিদ্যুৎ গ্রিডের স্মার্ট মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করে। কখন বাতাস সবচেয়ে বেশি থাকবে, কখন সূর্যালোক সবচেয়ে শক্তিশালী হবে এবং বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ চাহিদা কত হবে—সবকিছু আগাম বিশ্লেষণ করে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ করে।’
২০২৪ সাল থেকে মিননিং টাউন বছরে প্রায় ৫৬ কোটি ৬০ লাখ কিলোওয়াট-ঘণ্টা সবুজ বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। এর ফলে প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ টন কয়লার ব্যবহার সাশ্রয় হয়েছে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৭০০ টন।
সূত্র: সিএমজি