Sunday, May 24, 2026
Live

৭৫ বছরের আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্যালোচনায় সিচাংয়ে আন্তর্জাতিক পণ্ডিতদের সমাবেশ

৭৫ বছরের আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্যালোচনায় সিচাংয়ে আন্তর্জাতিক পণ্ডিতদের সমাবেশ

শান্তিপূর্ণ মুক্তির ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী লাসার সিচাং জাদুঘরে হয়ে গেল আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমিক সিম্পোজিয়াম।

সিচাংয়ের শান্তিপূর্ণ মুক্তির ৭৫তম বার্ষিকীতে, অঞ্চলটির রূপান্তর ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার একদল আন্তর্জাতিক পণ্ডিতকে স্বাগত জানায় লাসা।

পৃথিবীর ছাদ বলে পরিচিতি, সর্বোচ্চ এই অঞ্চলে সবুজায়নের প্রচেষ্টায় বড় ধরনের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বনভূমির পরিমাণ ১৯৫১ সালের ১ শতাংশেরও কম থেকে বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশে।

চীনে নিযুক্ত নেপালের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত কৃষ্ণ প্রসাদ ওলি বলেন, ‘এমনকি এখানে লাসার পাহাড়ের চারপাশেও আপনারা বিশাল আকারের বৃক্ষরোপণ দেখতে পাচ্ছেন। এখন বিশ্বের অন্যান্য অংশ এবং ভবিষ্যতের দেশগুলোর জন্যও এখান থেকে একটি বড় শিক্ষা নেওয়ার আছে। আর তা হলো সংরক্ষণ। আমাদের এই পথেই এগোনো উচিত।’

হিমালয়ের কোলে অবস্থিত সিচাংয়ের শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, রয়েছে এর অনন্য সংস্কৃতিও।

বিগত কয়েক দশকে, কেন্দ্রীয় সরকার এই অঞ্চলের ঐতিহ্য সুরক্ষায় শত শত কোটি ইউয়ান বিনিয়োগ করেছে।

অস্ট্রিয়ান ইতিহাসবিদ জর্জ ভাভরা বলেন, ‘সাধারণভাবে এমন অনেক গুজব আছে যা একেবারেই সত্যি নয়। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের গণমাধ্যমে এমন গুজব রয়েছে যে, চীন তিব্বতি ভাষাকে দমন করে। খুব সাধারণ একটি বিষয় হলো, রাস্তায় সর্বত্র সাইনবোর্ড এবং দুটি ভাষা (ম্যান্ডারিন এবং তিব্বতি) দেখা যায়। এমনকি অস্ট্রিয়া এবং সংখ্যালঘু এলাকাগুলোতেও সংখ্যালঘু ভাষায় কিছু লেখা উচিত কিনা তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। কিন্তু চীনে এটি কোনো সমস্যা নয়। সুতরাং, এই বিষয়টি সামলানোর ক্ষেত্রে চীন অস্ট্রিয়ার চেয়ে অনেক ভালো।’

মুক্তির পর থেকে এই মালভূমিতে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী এবং ব্যয়বহুল উদ্যোগটি হলো আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ।

আজ, সিচাংয়ে সড়ক ও রেলপথের একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে যা ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

স্কটিশ ভাষ্যকার ডেভিড ফার্গুসন বলেছেন, ‘ঘটনাচক্রে গতকাল আমি নিংচি থেকে ট্রেনে করে লাসা গিয়েছিলাম। যুক্তরাজ্য ৬০ মিলিয়ন জনসংখ্যার একটি দেশ এবং তারা ১৭ বছর ধরে ১৫০ কিলোমিটার দ্রুতগতির রেললাইন নির্মাণের জন্য সংগ্রাম করে ব্যর্থ হচ্ছে। এখন যদি আপনি ৪ বা ৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার সিচাংয়ের কথা বিবেচনা করেন, তারা কখনোই এত বড় মাপের একটি প্রকল্প হাতে নিতে পারবে না, এবং চীন ঠিক সেটাই করার চেষ্টা করছে। সিচাংয়ের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে প্রকৃত আগ্রহ রয়েছে এমন একমাত্র দেশ হলো চীন।’

প্রচলিত শিল্পের বাইরেও চীনের পশ্চিমাঞ্চলে উদীয়মান খাতগুলোও শক্তপোক্ত হচ্ছে।

সিচাং বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্কুলের অধ্যাপক নাইমা তাশি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ মুক্তির পর ৭৫ বছরে সিচাং একেবারে শূন্য থেকে তার বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। এটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।’

সূত্র: সিএমজি বাংলা

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.