চীনের বৃহত্তম স্বাদুপানির জলাভূমি পাইইয়াংতিয়ান—যার নাম একসময় জড়িয়ে ছিল দূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সঙ্গে। কিন্তু, সময়ের ব্যবধানে বদলেছে সেই চিত্র। বহু বছর অবহেলা ও দূষণে প্রাণহীন এই ঐতিহাসিক জলাভূমি এখন ফিরে পাচ্ছে তার হারানো প্রাণ।
বেইজিংয়ের দক্ষিণে গড়ে ওঠা ভবিষ্যতের নগরী শিওংআনের পরিবেশ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু এখন পাইইয়াংতিয়ান। গেল পাঁচ বছরে ব্যাপক পরিষ্কার অভিযান, পানি পুনঃসংযোগ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে এখানকার পানির মান এখন ভালো।
বিষয়টি এতো সহজেই হয়নি, এর পেছনে ঝরেছে ঘাম। জলাভূমি সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিং, সেন্সরযুক্ত ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পানি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে অঞ্চলজুড়ে। ফলে দ্রুত শনাক্ত করা যাচ্ছে দূষণের উৎস এবং নেওয়া যাচ্ছে পদক্ষেপ।
পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বিশ্লেষক খাং থিয়ানইউ বলেন, ‘আমরা আগে চেয়ে এখন খুব দ্রুত দূষিত এলাকা শনাক্ত করতে পারছি। প্রযুক্তির ব্যবহার পাইইয়াংতিয়ানের পানির মান ধরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিতে এসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
পরিবেশ পুনরুদ্ধারের প্রভাব পড়েছে জীববৈচিত্র্যেও। জলাভূমি ও আশপাশের এলাকায় ধীরে ধীরে ফিরে আসছে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও পরিযায়ী পাখি। বিপন্ন প্রজাতির বেয়ার্স পোচার্ড হাঁসও এখন নিয়মিত দেখা মিলছে এই অঞ্চলে।
স্থানীয় কারিগর লিও ইয়ংলে বলেন, ‘আমার শৈশবের সেই সুন্দর জলাভূমি যেন আবার ফিরে এসেছে। এত পাখি আর প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে আমি মুগ্ধ।’
পাইইয়াংতিয়ানের এই পুনর্জাগরণ শুধু পরিবেশ সংরক্ষণে চীনের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্যই নয়, বরং আধুনিক নগর উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
সূত্র: সিএমজি বাংলা