জুলাই ৩: বিশ্বের ৩৯টি দেশের ১২৩০২ জন নাগরিকের ৬৪.৪ শতাংশই মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ভীতিকর দেশ। সিজিটিএন ও চীনের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয় নতুন যুগের আন্তর্জাতিক প্রচার গবেষণা একাডেমির সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী উত্তরদাতারা ‘গ্লোবাল সাউথ’ এবং প্রধান উন্নত দেশগুলোর নাগরিক। তাদের ৭৫ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি কর্তৃত্বপরায়ণ দেশ; ৭২.১ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় বিভাজন মার্কিন সমাজে বিভেদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে; ৬৭.৫ শতাংশ দলীয় সংঘাতকে মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেন; ৬৪.৪ শতাংশ মনে করেন, মার্কিন বিচার বিভাগ দলীয় কোন্দলের একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে; ৭১.৭ শতাংশ মনে করেন, মার্কিন নির্বাচনে অর্থের অত্যধিক প্রভাব রয়েছে, যা দেশটির রাজনীতির মারাত্মক ক্ষতি করছে; ৭৩.৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি অন্যান্য দেশের স্বার্থকে গুরুতরভাবে উপেক্ষা করে; ৬৮.৪ শতাংশ মনে করেন, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ; ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে; ৬৬.৯ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে দুর্বল করেছে; ৬৫.৫ শতাংশ মনে করেন, বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি একটি প্রধান শক্তি হিসেবে তার মর্যাদার সঙ্গে গুরুতরভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এদিকে, মাত্র ৩৮.২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিশ্ব প্রশাসনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ইতিবাচক; ৩৯.২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের নিজ দেশের মধ্যে বাণিজ্য ন্যায্য।
আবার, ৬৪.৭ শতাংশ মনে করেন, অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অবৈধ; ৭৫ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক জবরদস্তি করে আসছে; ৬৪.৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, মার্কিন শুল্কনীতি তাদের দেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে; ৬৮.৩ শতাংশ মনে করেন, শুল্ক বিশ্ব অর্থনীতি এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ক্ষতি করে; ৭১.১ শতাংশ মনে করেন, মার্কিন শুল্কনীতির লক্ষ্য হলো মার্কিন অর্থনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখা; ৭০.৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত উস্কে দিচ্ছে; ৭০.৩ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায়শই অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে আসছে; ৭০.৬ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুদ্ধবাজ দেশ; ৭৩.৪ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ শুরু করেছে, যার ফলে গুরুতর মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে; ৭০.৯ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সামরিক সরঞ্জাম বিক্রয় এবং সামরিক সহায়তা বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি; ৭৪ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তার করতে চায়; ৬৮.৫ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী আচরণের কারণে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা জঙ্গলের আইনের পর্যায়ে ফিরে গেছে।
উত্তরদাতাদের ৭৪.৩ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গোষ্ঠীর (দলীয় আনুগত্য, জাতি, শ্রেণি ইত্যাদি) মধ্যে বিভাজন তীব্রতর হচ্ছে; ৭৫.৩ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের ব্যবধান বাড়ছে; ৭৯.৩ শতাংশ মনে করেন, বন্দুক সহিংসতা মার্কিন সমাজে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে; ৭২.৪ শতাংশ মনে করেন, বর্তমান অভিবাসন নীতি অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে; ৭৩.২ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবৈষম্য বিদ্যমান; ৭১.৬ শতাংশ মনে করেন, পুলিশের সহিংসতা মার্কিন শাসনব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের কাঠামোগত ত্রুটির প্রতিফলন; ৭৪.২ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকাসক্তি একটি গুরুতর সমস্যা; ৭৬.৯ শতাংশ মনে করেন, উচ্চ চিকিত্সা-ব্যয় এবং একটি অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সাধারণ আমেরিকান পরিবারগুলোর ওপর একটি বড় বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।
সিএমজি বাংলা