মার্কিন সামরিক বাহিনী জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে, জাপানের কাগোশিমা প্রিফেকচারের কানোয়া বিমানঘাঁটিতে, ‘টিফন’ মাঝারি-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র-ব্যবস্থা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। চীন এর তীব্র বিরোধিতা করে। এশিয়ার কোনো দেশে এ ধরনের মার্কিন মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র-ব্যবস্থা মোতায়েনের বিরোধিতা করে বেইজিং। আজ (শুক্রবার), চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কুও চিয়া খুন, এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
মুখপাত্র বলেন, ‘টিফন’ মাঝারি-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র-ব্যবস্থা হচ্ছে কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্র, যা অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থি এবং আঞ্চলিক কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এতে সামরিক সংঘাত ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘকাল ধরেই, জাপানসহ একাধিক এশীয় দেশের নাগরিকরা, এই ক্ষেপণাস্ত্র-ব্যবস্থা মোতায়েনের বিরোধিতা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের প্রতি, এতদঞ্চলের দেশগুলোর জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান দেখিয়ে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় চীন।
মুখপাত্র আরও বলেন, এই পরিকল্পনা জাপানের ‘পুনঃসামরিকীকরণ’ ত্বরান্বিত করার নতুন প্রমাণ। জাপানের ডানপন্থী শক্তি তথাকথিত ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের’ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য, তাদের সামরিক ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এটি জাপানের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক ও জাপানি আইনের লঙ্ঘন। এ তত্পরতা যুদ্ধোত্তর বৈশ্বিক শৃঙ্খলাকে চ্যালেঞ্জ করে, যা জাপানের স্ব-ঘোষিত ‘শান্তিপূর্ণ দেশ’-এর ভাবমূর্তির বিপরীত। জাপানের ‘নতুন ধরনের সামরিকবাদ’ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার উত্স হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া, অত্যন্ত সতর্ক থাকা, এবং এ অপতত্পরতাকে দমন করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করা। (অনুপমা/আলিম/শিশির)