অনেকে মনে করেন, “বিসিএস ক্যাডার হতে গেলে অনেক বেশি পড়তে হয়; যেহেতু আমি অন্যদের মতো এতো বেশি পড়তে পারি না বা পড়ার সুযোগ নেই, অতএব আমার দ্বারা বিসিএস ক্যাডার হওয়া সম্ভবপর নয়।”
এটা ভাবলে সত্যিই আপনি আর বিসিএস ক্যাডার হতে পারবেন না। কারণ আপনি পরীক্ষা দেয়ার আগেই নিজেই নিজের কাছে ফেল করে ফেলেছন!
আগে নিজের কাছে নিজেকে পাশ করতে হয়; তারপর পরীক্ষার হলে! আপনাকে পজিটিভ কিছু ভাবতে হবে। আপনাকে ভাবতে হবে, “আমার দ্বারাই হবে। যারা বিসিএস ক্যাডার হয় তারা ভিনগ্রহ থেকে আসেন নাই; তারা আমার মতোই একজন মানুষ। তারা পারলে আমি পারবো না কেন?”
তাহলে দেখবেন আপনার জন্য কাজটা অনেক সহজ হয়ে গেছে! কারণ যে কোনো কাজ শুরু করার আগে নিজের প্রতি নিজের এই বিশ্বাসটুকু খুবই প্রয়োজন যে, “এই কাজটি আমি পারবো; আমাকে যে পারতেই হবে।”
আর হ্যাঁ, বিসিএস ক্যাডার হতে গেলে অনেক বেশি পড়তে হয় যারা বলে থাকেন, তাদের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত নয়। আমি মনে করি, পরিকল্পনা মাফিক সঠিক গাইডলাইন অনুযায়ী কেবল Important বিষয়গুলো গুছিয়ে পড়লেই সহজে প্রিলি পাশ করা যায়। কারণ ২০০ নম্বরের বিসিএস প্রিলিতে আপনার ১৮০-১৯০ পাওয়ার দরকার নেই। ১২০ নম্বর পেলে বিসিএস প্রিলির যেকোনো পরীক্ষায় সেইফ জোন ধরা হয়। আপনি দেখবেন, ৩৮তম বিসিএস প্রিলিতে অনেকেই প্রথম প্রথম বলেছে, “প্রশ্ন অনেক সহজ হয়েছে এই প্রশ্নে ১৪০-১৫০ না পেলে প্রিলি পাশ করা পসিবল না।”
কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হলো? দেখা গেল ১১০-১১৫ নম্বর পেয়ে টিকেছে!
আবার ৪০তম বিসিএস প্রিলি পরীক্ষার পরও অনেকে প্রথম প্রথম বলেছে, “প্রশ্ন সহজ হয়েছে। এই প্রশ্নে ১৩০-১৪০ না পেলে প্রিলি পাশ করা পসিবল না।”
কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হলো? দেখা গেল ১০৬-১১০ নম্বর পেয়ে টিকেছে!
কিন্তু এতো সহজ প্রশ্নেও এতো কমন নম্বর পাওয়ার কারণ কী?
মূল কারণ হলো, উল্টাপাল্টা প্রয়োজনীয় – অপ্রয়োজনীয় সব প্রশ্ন পড়ে মাথা নষ্ট করার পর পরীক্ষার হলে গিয়ে কমন ও সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েও ভুল করে কিংবা কনফিউজড হয়ে যায়!
কিন্তু পরীক্ষার হলে শুধু পারা জিনিসগুলোর উত্তর সঠিকভাবে দিয়ে আসতে পারলে পাশ করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।
তাই আমি বলি, “কম পড়বেন কিন্তু Important বিষয়গুলো গুছিয়ে পড়বেন।”
দেখবেন কত সহজে বিসিএস প্রিলি পাশ করা যায়! আর আমি ব্যক্তিগতভাবে এই আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে ৩৪তম বিসিএস থেকে শুরু ৪০তম বিসিএস পর্যন্ত (৩৯তম স্পেশাল বিসিএস ব্যতীত) ৬টি বিসিএস দিয়েছি আর ৬ টি BCS-ই পাশ করেছি আল্লাহ রহমতে। এমন কি আমি ব্যাংকের কাজের এতো চাপের মধ্যেও প্রিলিতে ফেল করিনি!
আরেকটি বিষয় খেয়াল করবেন কেউ এমন আছে যে, অল্প পড়েও বার বার বিসিএস পাশ করছে, আমার কেউ কেউ এমন আছে ৫-৬ বছর ধরে রাত-দিন পড়েও একবারও বিসিএস প্রিলি পাশ করতে পারে না। এখানে মূল কারণ হলো পড়ার টেকনিক, গাইডলাইন। বিসিএসে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনি সকল টপিক না পড়ে কি কি টপিক পড়বেন সেটা সঠিকভাবে সিলেক্ট করা। আর আপনি যদি এই কাজটি করে ফেলতে পারবেন, এখানেই আপনার বিসিএস প্রলি প্রস্তুতি অর্ধেক শেষ! আর বাকি অর্ধেক হলো আপনার পরিশ্রম ও ভাগ্য।
লেখক : গাজী মিজানুর রহমান
– ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার
– সাবেক সিনিয়র অফিসার (পূবালী ব্যাংক লিমিটেড)
– সাবেক সহকারী শিক্ষক, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৩৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার)
– ১০তম NTRCA (প্রভাষক)
– সাবেক প্রতিষ্ঠাতা, BCS টেকনিক (বিসিএস স্পেশাল প্রাইভেট প্রোগ্রাম)
– লেখক, BCS Preliminary Analysis (বাংলাদেশের প্রথম সাজেশনভিত্তিক BCS প্রিলির পূর্ণাঙ্গ বই)
– লেখক, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ Analysis (বাংলাদেশের প্রথম সাজেশনভিত্তিক প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ বই)