সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ ৫ লাখ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে অনুমোদিত পদের প্রায় ২৬ শতাংশ পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। সর্বশেষ হালনাগাদ করা সরকারি কর্মচারীদের পরিসংখ্যান ১ জুন ২০২৩ তারিখে প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাতে শূন্য পদসহ সরকারি চাকরির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া কোন গ্রেডে কতটি এবং কোন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে কতটি পদ, সেটিও উল্লেখ করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-এর তথ্য মতে, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে অনুমোদিত পদ আছে ১৯ লাখ ১৫১টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮১৮ জন। বাকি ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৭৬টি পদ এখন শূন্য। সাধারণত এতো পদ শূন্য থাকে না। ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শূন্য পদের সংখ্যা কখনো চার লাখের বেশি হয়নি। সব সময়ই চার লাখের নিচে ছিল। এর মধ্যে এবার বাদে ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ শূন্য পদ ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজারের কিছু বেশি। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য বলছে এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখে দাঁড়িয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, শূন্য পদের মধ্যে প্রথম শ্রেণি হিসেবে পরিচিত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের পদ শূন্য আছে ৬৪ হাজার ৫৮২টি পদ। আর ১০ থেকে ১২ তম গ্রেডে শূন্য পদ ৯৭ হাজার ৪৪৭টি পদ। বাকি শূন্য পদগুলো অন্যান্য গ্রেডের। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এ ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতির একটি প্রভাব পড়েছে। কারণ করোনাকালে নিয়োগ কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছিল।
পরিসংখ্যান বলছে, সরকারি চাকরিতে ২০১৮ সালে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৪৭টি, ২০১৯ সালে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮, ২০২০ সালে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯৫৫ এবং ২০২১ সালে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫টি পদ ফাঁকা ছিল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ৬ হাজার ৮২১টি এবং অধিদফতর ও পরিদফতরে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৬টি পদ ফাঁকা রয়েছে। আর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৩ হাজার ৩৫৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে ফাঁকা রয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮১৯টি পদ।
করোনার মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটা বন্ধ ছিল, যে কারণে সরকারি চাকরিতে এখন সবচেয়ে বেশি পদ ফাঁকা রয়েছে। এছাড়া সবসময়ই কেউ না কেউ চাকরি থেকে অবসরে যাচ্ছেন। ফলে শতভাগ পদ কখনই পূরণ হয় না। তবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো উদ্যোগ নিলে ফাঁকা পদের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা যাবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।