৪৫ তম বিসিএস আবেদনের নিয়ম ও ক্যাডার চয়েস নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে। ৪৫তম বিসিএসের আবেদনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২২ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। অনলাইনে ফরম পূরণ করতে গিয়ে নতুন প্রার্থীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। পদের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা উল্লেখ করে গত ৩০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি)। অনলাইনে ক্যাডার পদে যেমন পছন্দ নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়, তেমনই নন-ক্যাডার পদেও পছন্দের তালিকা নির্দিষ্ট করে দিতে পারবেন প্রার্থীরা।
৪৫তম বিসিএসে আবেদনের জন্য এই ওয়েবসাইটে (http://bpsc.teletalk.com.bd) গিয়ে Online Application for 45th BCS অপশনে ক্লিক করে আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এখানে জেনারেল ক্যাডার, টেকনিক্যাল/ প্রফেশনাল ক্যাডার ও উভয় ক্যাডার—এই তিন অপশন থেকে কাঙ্ক্ষিত অপশনে ক্লিক করলে অনলাইন আবেদনের প্রথম পাতা দৃশ্যমান হবে। অন্য প্রার্থীকে অনুকরণ বা দোকান থেকে আবেদন ফরম পূরণ করলে বা বিস্তারিত না জেনে আবেদন করলে, চাকরিজীবনে আফসোস করতে হতে পারে। তাই আবেদনের পূর্বে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো বিস্তারিত জেনে নিন।
এই অংশে ওপরে দৃশ্যমান ক্যাডার তালিকা থেকে প্রার্থীর পছন্দ অনুযায়ী নিচে পছন্দক্রম সাজাতে হবে। এই অংশ পূরণের আগে অবশ্যই সব ক্যাডার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেবেন। ক্যাডার তথ্য জানা না থাকায় এই অংশে বেশির ভাগ প্রার্থী ভুল করে পরে আফসোস করেন।
সংবাদপত্র, ইন্টারনেট ও বাজারে প্রচলিত বিসিএস তথ্যভিত্তিক বই থেকে সব ক্যাডার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন। শূন্য পদের সংখ্যানুযায়ী নয়, আপনার পছন্দের চাকরির ধরন অনুযায়ী ক্যাডার পছন্দক্রম সাজাবেন। সব ক্যাডারেরই সমান মর্যাদা; কিন্তু কাজের ক্ষেত্র অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।
এই অংশে প্রার্থীর পূরণ করা সব তথ্য দৃশ্যমান হবে এবং কোনো ভুলত্রুটি থাকলে এডিট বাটনে ক্লিক করে সংশোধনও করতে পারবেন। অ্যাপ্লিকেন্টস ইন্টারেস্ট ফর নন-ক্যাডার মেন্যুর ৯ম গ্রেড/ ১০ম গ্রেড/ দুটিই/ কোনোটিই নয় অপশন থেকে একটি নির্বাচন করবেন। আপনি বেকার হলে, দুটি অপশন নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এর সঙ্গে প্রার্থীর ৩০০৩০০ পিক্সেলের একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইট) ও ৩০০৮০ পিক্সেলের একটি স্বাক্ষর (সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট) নির্ধারিত বক্সে আপলোড করে আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা দিতে হবে। বিসিএসের সব প্রক্রিয়ায় প্রার্থীকে আবেদনের স্বাক্ষর ব্যবহার করতে হবে।
৪৫তম বিসিএসে প্রথমবারের মতো এই অংশ রয়েছে। প্রার্থীর পছন্দক্রম অনুযায়ী নন-ক্যাডার তালিকা তৈরি করতে হবে। ক্যাডারের মতো নন-ক্যাডার চয়েসের সময়ও নন-ক্যাডার চাকরিগুলোর বিস্তারিত জেনে এই অংশ পূরণ করুন। সংবাদপত্র, ইন্টারনেট ও বাজারে প্রচলিত বিসিএস তথ্যভিত্তিক বই থেকে নন-ক্যাডার পদগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন। একই গ্রেডের সব নন-ক্যাডারেরই সমান মর্যাদা; কিন্তু কাজের ক্ষেত্র অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।
আবেদন চূড়ান্তভাবে সাবমিট করার পর ইউজার আইডি সংবলিত একটি অ্যাপ্লিকেন্টস (আবেদনকারী) কপি দৃশ্যমান হবে। অ্যাপ্লিকেন্টস কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে। ইউজার আইডি ব্যবহার করে যথাযথ নির্দেশনা অনুসরণ করে টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে। ফি জমাদান সম্পন্ন হলে টেলিটক থেকে একটি পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রার্থীর প্রবেশপত্র ডাউনলোড ও সংরক্ষণ করতে হবে।
প্রথমবারের মতো ৪৫তম বিসিএসে আবেদন সময়সীমা মাত্র ২১ দিন। দুটি জেনারেল ক্যাডারে (তথ্য ও বাণিজ্য) ৪৫তম বিসিএসে কোনো শূন্য পদ নেই। শুল্ক ও আবগারি ক্যাডারে ৫৪ পদের বিজ্ঞপ্তি (৩১তম-৪০তম বিসিএসের মধ্যে দীর্ঘদিন এই ক্যাডারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি) এবং কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারেও উল্লেখযোগ্য পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে (এই ক্যাডারেও দীর্ঘদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বন্ধ ছিল)।
প্রথমবারের মতো পরিবার পরিকল্পনার কারিগরি ক্যাডার পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (৪৪১টি শূন্য পদ) দেওয়া হয়েছে। নন-ক্যাডার গ্রেড–৯ থেকে গ্রেড–১২ পদের নাম ও পদসংখ্যা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো ক্যাডারের পাশাপাশি নন-ক্যাডার পছন্দের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৫৩৯ জন (সহকারী সার্জন ৪৫০ জন ও ডেন্টাল সার্জন ৭৯ জন)
শিক্ষা ক্যাডারে ৪৩৭ জন
প্রশাসন ক্যাডারে ২৭৪ জন
পুলিশ ক্যাডারে ৮০ জন
কাস্টমস ক্যাডারে ৫৪ জন
আনসার ক্যাডারে ২৫ জন
কর ক্যাডারে ৩০ জন এবং
পররাষ্ট্র, বন, রেল, কৃষি, মৎস্যসহ বাদবাকি ক্যাডারে ৮৭০ জন নেওয়া হবে।
সূত্র : প্রথম আলো, লেখক : রবিউল আলম [২৩-১২-২০২২]