মে ৮, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রতিভা উন্নয়নের সমন্বিত বিকাশ জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে চীন। ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ২৪৮ কোটি ইউয়ান, যা আগের বছরের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি।
চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই চিনপেং বলেছেন, মৌলিক গবেষণা, প্রতিভা বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে উচ্চশিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেটে উচ্চশিক্ষা খাতে ১৩৫ বিলিয়ন ইউয়ান বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউয়ান বেশি।
২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে চীনের শিল্প রোবট রপ্তানির পরিমাণ গত বছরের চেয়ে ৪২ শতাংশ বেড়ে ৩১৬ কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে। সব ধরনের রোবটের রপ্তানি ছিল ১১ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ইউয়ান, যা বিশ্বের ১৪৮টি দেশ ও অঞ্চলে বিক্রি হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিভা গড়ে তোলার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ কোটি ৯০ লাখ ইউয়ান, যা বছরে ৮৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি।
গত পাঁচ বছরে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাষ্ট্রীয় প্রাকৃতিক বিজ্ঞান পুরস্কার ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন পুরস্কারের ৭৫ শতাংশের বেশি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রগতি পুরস্কারের ৫৫ শতাংশের বেশি অর্জন করেছে।
২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৮০ হাজার উদ্ভাবনী পেটেন্ট শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু হয়েছে। একই সময়ে পেটেন্ট হস্তান্তর ও লাইসেন্সিং নিবন্ধন বেড়েছে ১০৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সহযোগিতাও দ্রুত বাড়ছে। সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে সি’আন চিয়াওতং বিশ্ববিদ্যালয় পাঁচ বছরে ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে তিন হাজারের বেশি প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করেছে এবং ২৮১টি প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও প্রতিভার এই সমন্বিত উন্নয়ন কৌশল চীনের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা বাড়াবে এবং নতুন শিল্পখাতের বিকাশকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
ফয়সল/সাকিব
তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন