এপ্রিল ২৩, ঢাকা: বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আরেকটি নতুন সংযোজন—মোবাইল মেডিক্যাল সার্জিক্যাল ভেহিকল। বুধবার রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনের পক্ষ থেকে এই বিশেষায়িত যানটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চীন এই সার্জারি ভ্যান হস্তান্তরকে একটি নতুন সূচনা হিসেবে দেখে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে হৃদরোগ ও জনস্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহী বলে জানান ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
“আজ আমরা শুধু একটি মোবাইল সার্জারি ভ্যান হস্তান্তর করছি না, বরং চীন-বাংলাদেশের গভীর বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক সহযোগিতার একটি প্রতীক তুলে দিচ্ছি। এই ভ্যানটি তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম হবে।
আমরা একটি আরও ঘনিষ্ঠ স্বাস্থ্য সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে চাই, যাতে এই অংশীদারিত্ব দুই দেশের জনগণের জন্য আরও বেশি কল্যাণ বয়ে আনে এবং চীন-বাংলাদেশ সমগ্র কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন মাত্রা যোগ করে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং দুই দেশের জনগণের জন্য আরও কল্যাণ বয়ে আনবে।”
চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে হৃদরোগ চিকিৎসায় যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এরইমধ্যে ইতিবাচক ফল দিয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট প্রতি বছর লক্ষাধিক রোগীকে প্রায় বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে থাকে। কিন্তু সরকারের প্রয়োজন এই সেবাকে ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
“চীন-বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই মোবাইল মেডিক্যাল সার্জিক্যাল ইউনিটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোজন। আমি বিশ্বাস করি, এটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।আমাদের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা, বিশেষ করে হৃদরোগ মোকাবিলা করা। এই মোবাইল ইউনিট সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার। প্রতিরোধমূলক ও উন্নয়নমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দিয়ে আমরা একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের মোবাইল সার্জিক্যাল ইউনিট জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা দিতে সক্ষম। এতে করে দুর্গম ও অবহেলিত অঞ্চলের রোগীরাও উন্নত চিকিৎসার আওতায় আসবে।
এছাড়া এই ইউনিটের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে চিকিৎসা কার্যক্রম, স্ক্রিনিং এবং জরুরি অপারেশন পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ শুধু স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেই নয়, বরং চীন-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেও আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনগণমুখী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই মোবাইল সার্জিক্যাল ভেহিকল।
ঐশী/হাশিম
তথ্য ও ছবি: সিএমজি বাংলা