ফয়সল আবদুল্লাহ
চীনে গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কিশোর অপরাধ এবং শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের মামলার সংখ্যা কমেছে। দেশটির সুপ্রিম পিপলস প্রকিউরেটরেট (এসপিপি) সোমবার প্রকাশিত ২০২৫ সালের কিশোর প্রসিকিউশন বিষয়ক শ্বেতপত্রে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পর্যালোচনা ও বিচারের জন্য ৯১ হাজার ৫৭৩ জন কিশোর সন্দেহভাজনের মামলা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কম।
এসপিপি জানায়, ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী অপরাধসংশ্লিষ্ট কিশোরের সংখ্যা ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। গুরুতর সহিংস অপরাধে জড়িত ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী ২৪ জনের বিরুদ্ধে বিচারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যাতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যায় যে কম বয়স অপরাধের দায় এড়ানোর সুযোগ নয়।
একই সঙ্গে পুনর্বাসন ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালে ২৮ হাজার ২০০ কিশোরকে গ্রেপ্তারের অনুমোদন দেওয়া হয়নি এবং আরও ৩৮ হাজার ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদের জন্য পরবর্তী পর্যায়ে শিক্ষা ও সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭১ হাজারের বেশি কিশোরের অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড আইন অনুযায়ী সিলগালা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘবদ্ধ আচরণ, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা এবং পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এ কারণে অপরাধের মাত্রা ও ঝুঁকি অনুযায়ী পৃথক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যাও কমেছে। ২০২৫ সালে এ ধরনের অপরাধে ৭২ হাজার ৮০৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ কম। শিশু যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধে অভিযুক্তের সংখ্যা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪২ হাজার ৮৭৩ জনে নেমে এসেছে। গত পাঁচ বছরে এই ধরনের অপরাধেও প্রথমবারের মতো নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
এসপিপি জানিয়েছে, কেবল অপরাধের বিচার নয়, বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক পরিবেশের দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে কিশোর অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: সিএমজি