সেপ্টেম্বর ৩: জাপানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনা জনগণের প্রতিরোধ যুদ্ধ ও বিশ্ব ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুদ্ধের ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি আলোচনা সভা ৩রা সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের মন্ত্রী লি শু লেই উপস্থিত ছিলেন।
জাপানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনা জনগণের প্রতিরোধ যুদ্ধ ছিল অত্যন্ত কঠিন ও গৌরবময় একটি মহাযুদ্ধ। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে গঠিত জাতীয় ঐক্য ফ্যাসিবাদ বিরোধী ফ্রন্টের পতাকাতলে চীনা জনগণ দৃঢ়তার সঙ্গে শক্তিশালী শত্রুকে মোকাবিলা করে এবং নিজেদের জীবন উত্সর্গ করে এক প্রাচীর নির্মাণ করে, যা আধুনিক যুগে বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম পূর্ণ বিজয় এনে দেয়। চীনা জনগণের প্রতিরোধ যুদ্ধ ছিল বিশ্ব ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চীনের জনগণ তাদের বিশাল জাতিগত আত্মত্যাগের মাধ্যমে মানবসভ্যতা রক্ষা এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় ইউনাইটেড ফ্রন্ট ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্ট, কেন্দ্রীয় পার্টি ইতিহাস ও নথি গবেষণা ইনস্টিটিউট, কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের রাজনৈতিক কাজের বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যুদ্ধের বীর মডেল সেনাবাহিনীর তরুণ কর্মকর্তা ও সৈনিক প্রতিনিধি এবং তরুণ শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। তারা চীনের জনগণের প্রতিরোধ যুদ্ধ ও বিশ্ব ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুদ্ধের বিজয়ের ঐতিহাসিক তাত্পর্য ব্যাখ্যা করেন এবং ইতিহাস স্মরণে রাখা, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, শান্তি মূল্যায়ন করা ও ভবিষ্যৎ গঠনের দৃঢ় সংকল্প এবং শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে অটল থাকার মহান আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন।
এই আলোচনা সভা কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ, কেন্দ্রীয় ইউনাইটেড ফ্রন্ট ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্ট, কেন্দ্রীয় পার্টি ইতিহাস ও নথি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের রাজনৈতিক কাজের বিভাগ যৌথভাবে আয়োজন করে। বেইজিংয়ে অবস্থিত যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রবীণ সৈনিক ও কমরেড, যুদ্ধের সেনাপতিদের আত্মীয় প্রতিনিধি, যুদ্ধে শহীদদের পরিবারের প্রতিনিধি, কেন্দ্রীয় দল, সরকার, সামরিক বাহিনী ও জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন বিভাগ এবং বেইজিং পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এতে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দল ও জাতীয় শিল্প ও বাণিজ্য ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ এবং নৈর্ব্যক্তিক ব্যক্তিদের প্রতিনিধি, চীনা জনগণের প্রতিরোধ যুদ্ধে বিজয়ে অবদান রাখা আন্তর্জাতিক বন্ধুবৃন্দ বা তাদের পরিবারের প্রতিনিধি এবং বেইজিংয়ের বিভিন্ন শ্রেণীর জনগণের প্রতিনিধিসহ প্রায় ২০০জন এতে অংশগ্রহণ করেন।
সূত্র: সিএমজি