Wednesday, June 10, 2026
Live

ট্রাম্পের "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতি পশ্চিমাদের চীনের দিকে ঝুঁকতে প্ররোচিত করছে: পলিটিকো

সিএমজি
সিএমজি বাংলা বিভাগ
Published: Updated:
ট্রাম্পের "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতি পশ্চিমাদের চীনের দিকে ঝুঁকতে প্ররোচিত করছে: পলিটিকো

মার্চ ১৯: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' (সবার আগে আমেরিকা) নীতির কারণে কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের মতো ঐতিহ্যবাহী মিত্ররা ক্রমশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারাচ্ছে এবং চীনের দিকে ঝুঁকছে। ১৫ মার্চ মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এবং ব্রিটিশ স্বাধীন জনমত জরিপ সংস্থা 'পাবলিক ফার্স্ট'-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতির কারণে এই চারটি দেশের অধিকাংশ সাধারণ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অসন্তুষ্ট। তারা মনে করছে, বিশ্বশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর বিপরীতে, অংশগ্রহণকারীরা ক্রমবর্ধমানভাবে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনকে তারা অগ্রণী অবস্থানে দেখছে। জরিপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সাধারণ মানুষ মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব হলেও চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এখন অনেক বেশি কঠিন।

কানাডা এবং জার্মানির অধিকাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা কঠিন হয়ে পড়ায় তারা চীনের কাছাকাছি আসছেন। ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের অনেক অংশগ্রহণকারীও একই মত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, ট্রাম্পের "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অতীতের "নিয়মতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা"কে উল্টে দিয়ে বিশ্ব মঞ্চে একঘরে বা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এই চার দেশের অংশগ্রহণকারীরা সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং চীনের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। কানাডায় ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব বলে মত দিয়েছেন এবং তাদের সরকারের এটি করা উচিত বলে মনে করেন। ব্রিটেনে ৪২ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর বিষয়টি "মন্দ নয়", তবে তা বাস্তবে কতটা সম্ভব তা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে। অন্যদিকে, খুব কম সংখ্যক মানুষ মনে করেন যে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব, যা মূলত বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী অবস্থানকেই প্রতিফলিত করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় দেশ এবং কানাডার উত্তরদাতাদের মধ্যে একটি বিষয়ে স্পষ্ট ঐকমত্য রয়েছে—আর তা হলো, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় চীন জয়ী হচ্ছে। ব্যাটারি ও রোবোটিক্স প্রযুক্তির উন্নয়নে চীন ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়া চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ও সৌর প্যানেলের নকশা বিশ্বমানে পরিণত হয়েছে।

সাবেক বাইডেন প্রশাসনের সময় মার্কিন দূতাবাসের উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সারাহ বেরান বলেন, "প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে চীনের নেতৃত্ব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী মানুষের ধারণায় এক প্রকৃত পরিবর্তন এসেছে।" প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রযুক্তি খাতে চীনের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এখন ফল দিতে শুরু করেছে।

(স্বর্ণা/তৌহিদ/লিলি)

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.