Sunday, August 30, 2026
Live

প্রথম দলটি সিচাং জিলং-এ উদ্ধারকাজের মূল অবস্থানে পৌঁছেছে!

সিএমজি
সিএমজি বাংলা বিভাগ
Published: Updated:
প্রথম দলটি সিচাং জিলং-এ উদ্ধারকাজের মূল অবস্থানে পৌঁছেছে!

২৬ আগস্ট সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে, নেপালের দিক থেকে ভূমিধসের কারণে সিচাংয়ের শিগাতসে শহরের জিলং জেলার জিলং বন্দরে ব্যাপক প্রাণহানি এবং নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। ২৮শে তারিখ থেকে, অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বাহিনী ‘জল, স্থল ও আকাশ’ তিনটি মাধ্যমে সম্মিলিত অভিযান চালিয়ে বিপর্যস্ত মূল এলাকায় প্রবেশ করে। বর্তমানে প্রথম উদ্ধার দল জিলং বন্দরের উদ্ধারকাজের মূল অবস্থানে পৌঁছেছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলার কাজ জোরেশোরে চলছে।

অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বাহিনী স্থলপথ, জলপথে অনুসন্ধান এবং বড় পেলোডের ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে সরবরাহ পাঠানোর কৌশল অবলম্বন করে বিপর্যস্ত মূল এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা চালায়। ২৮শে তারিখ বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে, সিচাং অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার স্কোয়াড্রনের প্রথম দলের ছয়জন সদস্য এবং সিছুয়ান অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার স্কোয়াড্রনের প্রথম দলের ১৫জন সদস্য ও ১টি কুকুর কেন্দ্রীয় পয়েন্টে পৌঁছায় এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। তারাই প্রথম পেশাদার দল যারা উদ্ধারকাজের মূল অবস্থানে পৌঁছায়।

২৮শে তারিখ থেকে, উদ্ধার বাহিনী ‘জল, স্থল ও আকাশ’ তিনটি বিশেষ দল গঠন করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার অভিযান চালায়।

স্থলপথে, ২৮শে তারিখ ভোরে, একাধিক উদ্ধার দল পাহাড় পেরিয়ে বিপর্যস্ত মূল এলাকার দিকে এগিয়ে যায়।

আকাশপথে, উদ্ধার দল বড় পেলোডের ড্রোন ব্যবহার করে কর্মী ও সরবরাহ পরিবহন করে।

জলপথে, রাবারের নৌকা ব্যবহার করে নদী পথে মূল এলাকার দিকে অগ্রসর হয়।

দুর্যোগের পর, জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার ব্যুরো কর্তৃক প্রেরিত চীনা উদ্ধার দল ও লাসা শহরের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার মোবাইল স্কোয়াড্রনের স্থল উদ্ধার দল সমন্বিত যৌথ দল শুক্রবার জরুরি ভিত্তিতে স্থলপথে জিলং বন্দরের দিকে রওনা হয়।

মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী, পুলিশ, চিকিত্সকসহ বিভিন্ন উদ্ধার বাহিনীর ২০৯৬ জন কর্মী দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত রয়েছেন। এখন পর্যন্ত মোট ৫০৫জন উদ্ধারকর্মী বন্দরের মূল এলাকায় প্রবেশ করে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। ৩০০টিরও বেশি যানবাহন উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে এবং ড্রোন ব্যবহার করে উদ্ধার, জনসাধারণের পরিচালনা ও দুর্যোগ এলাকা জরিপের কাজ করা হয়েছে। ২টি স্যাটেলাইট যোগাযোগ যান, পোর্টেবল ডিজিটাল ক্লাস্টার বেস স্টেশন ও স্যাটেলাইট পোর্টেবল বেস স্টেশন ব্যবহার করে প্রথম সারির জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে।

জিলং বন্দরে বিভাগীয় ভিত্তিতে সড়ক পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে

বর্তমানে জিলং বন্দরের দিকে যাওয়ার সড়ক পুনরুদ্ধারের কাজ বিভাগীয় ভিত্তিতে সম্পন্ন হচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে আগেভাগে কর্মী পাঠিয়ে সড়কের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সড়ক পুনরুদ্ধারের দিকনির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে, এক্সকাভেটর দিয়ে পথ তৈরি করে বুলডোজার দিয়ে ধীরে ধীরে সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে, যাতে পরবর্তী উদ্ধার দলগুলি দ্রুত প্রবেশ করতে পারে।

বিপর্যস্ত জনগণকে নিরাপদে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সিচাং সামরিক অঞ্চলের চিকিত্সা দল ওষুধ ও চিকিত্সাসেবা প্রদান করছে

সিচাং-এর জিলং কাউন্টিতে ভূমিধসের পর গৌণ বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা চালু করে জনগণকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। প্রায় ৫০০জন ঝুঁকিপূর্ণ জনগণকে নিরাপদে ৪টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সিচাং-এর জিলং ভূমিধসের পর থেকে, যোগাযোগ খাত জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো মেরামতের কাজে পুরোপুরি নিয়োজিত রয়েছে। ২৮শে তারিখ বিকাল ৪টা পর্যন্ত, ১টি বেস স্টেশন পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩টি নতুন বেস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। সব স্তরের সরকারের জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রয়েছে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি।

নেপালের দিক থেকে হিমবাহ ধসের ফলে এই ভূমিধস ঘটেছে

নেপালের সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা সিএমজি (চায়না মিডিয়া গ্রুপ)-কে জানিয়েছেন, নেপালের দিক থেকে হিমবাহ ধসের ফলে এই ভূমিধস ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহ ধসের স্থানটি চীন-নেপাল সীমান্তের তংলিন জাংবু নদীর (নেপালে "লুন্দে নদী" নামে পরিচিত) নেপালের দিকে অবস্থিত। হিমবাহ গলনের সাথে সাথে এই স্থান থেকে প্রতিদিন কিছু গলিত পানি নদীতে মিশছে। কিন্তু এইবার হিমবাহ ধস অত্যন্ত হঠাৎ ঘটায় অল্প সময়ে প্রবল আঘাত হয় এবং বিশাল বরফের খণ্ড পাহাড়ের বালি-পাথর সাথে করে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়, যা বন্দরের কাছে চীনের দিকে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। নেপালের দিকেও বন্দর এলাকা ছাড়াও অন্যান্য অঞ্চলে ক্ষতি হয়েছে।

নেপালি বিশেষজ্ঞরা সিএমজিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, এই ভূমিধসের উত্পত্তি নেপাল অংশে।

বর্তমান ভূতাত্ত্বিক, আবহাওয়াজনিতসহ বিভিন্ন বাহ্যিক পরিস্থিতি এই উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে

উপরন্তু, হিমবাহ ধসের খাড়া দেওয়ালের ডান পাশে আরও একটি বরফের খণ্ড রয়েছে, যেখানে অনেক ফাটল রয়েছে। বরফ পাথরের মতো নয়, বরফের কোনো শক্ত ভিত্তি নেই, তাই এর অবস্থা নির্ণয় করা কঠিন।

সূত্র: সিএমজি

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Featured Products

View All

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.