চীনে নতুন ব্যবসা শুরু করে সফল হয়েছেন এমন কয়েকজন বিদেশি উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, দেশটির বিশেষ নীতি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানের কারণেই তারা পেশাজীবনের জন্য চীনকে বেছে নিয়েছেন।
কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের উদ্যোক্তা ওনদা ডেঙ্গুয়েট রলফ গারসন ইন্টারনেটে ব্যাপক পরিচিতি পান উত্তর-পশ্চিম চীনের শায়ানসি প্রদেশের ছাংআন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেতু ও টানেল প্রকৌশল পড়ার সময় স্থানীয় উপভাষায় গান গেয়ে। বর্তমানে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত স্বল্পদৈর্ঘ্যের নাটক তৈরি করছেন।
২০২১ সালে চীনের শানসি পাইলট মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে উদ্যোক্তা ভিসা পাওয়া প্রথম বিদেশিদের একজন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে তিনি একজন চীনা অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির কনটেন্ট তৈরি, প্রযোজনা, সম্পাদনা ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগে ৩০ জনের বেশি কর্মী কাজ করছেন।
ইতালির ৫৯ বছর বয়সী উদ্যোক্তা জিউসেপ ফারান্দা কর্ডেলাও চলতি বছরের শুরুতে বেইজিংয়ে একটি কোম্পানি চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি মূলত গাড়ি শিল্পের জন্য ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ বা যন্ত্রের পারস্পরিক সংযোগ ব্যবস্থা এবং দূরনিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা পরীক্ষার সমাধান নিয়ে কাজ করছে।
আফগানিস্তানের উদ্যোক্তা ওয়াহেদ আহমাদজাই—বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন—নতুন উদ্যোক্তাদের এই বাধা ও ব্যবধান দূর করতে সহায়তা করছেন। ২০২০ সালে ছাওইয়াংয়ের একটি আন্তর্জাতিক মেধা ও উদ্যোক্তা বিষয়ক আয়োজনে তিনি স্বীকৃতি লাভ করেন।
প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ‘দুটি অঞ্চল’ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো একটি আন্তর্জাতিক মানের, বাজারভিত্তিক ও আইনসম্মত ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করা। পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প, শিল্পপার্ক ও উৎপাদনের মূল উপাদানগুলোর ক্ষেত্রে দ্বার উন্মুক্ত করা, বৈশ্বিক সম্পদ আকৃষ্ট করা, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং বেইজিংয়ের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়ানো।
সূত্র: সিএমজি