Saturday, September 26, 2026
Live

ব্লু কার্বন সংরক্ষণে বাংলাদেশ-চীন প্রযুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতার আহ্বান

সিএমজি
সিএমজি বাংলা বিভাগ
Published: Updated:
ব্লু কার্বন সংরক্ষণে বাংলাদেশ-চীন প্রযুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতার আহ্বান

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২১, সিএমজি বাংলা: বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে টেকসই ও কম কার্বন-ভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি, অর্থায়ন, গবেষণা ও দক্ষতা বিনিময় জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের আইন ও পরিবেশগত আইন ও নীতি গবেষক সহকারী অধ্যাপক প্রীতি কনা সিকদার।

সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র অর্থনীতি এবং টেকসই উন্নয়ন’ অধিবেশনে ‘ব্লু কার্বন-ভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন: বঙ্গোপসাগরে নতুন অর্থনীতি নিশ্চিতকরণ—বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার সুযোগ’ শীর্ষক উপস্থাপনায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রীতি কনা সিকদার বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর বিশ্বের অন্যতম উৎপাদনশীল সামুদ্রিক অঞ্চল। প্রায় ১৬ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা মৎস্যসম্পদ, নৌপরিবহন, জ্বালানি ও পর্যটনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এ অঞ্চলের পরিবেশ ও অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে পড়ছে।‘

তিনি বলেন, ‘ম্যানগ্রোভ, জোয়ারভাটা-নির্ভর লবণাক্ত জলাভূমি ও সমুদ্রঘাসের মতো উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র বিপুল পরিমাণ কার্বন শোষণ ও সংরক্ষণ করতে পারে। একইসঙ্গে এসব বাস্তুতন্ত্র ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেয় এবং মাছের প্রজননক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।‘

তার মতে, ব্লু কার্বন সংরক্ষণ শুধু জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উপায় নয়; এটি দুর্যোগসহনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগও তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের ব্লু কার্বনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সুন্দরবনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটি বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলজুড়ে বিস্তৃত এবং বাংলাদেশের ব-দ্বীপকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা দিয়ে আসছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ জোয়ারভাটা অঞ্চল, কাদামাটি ও নতুন জেগে ওঠা জলাভূমিও গুরুত্বপূর্ণ ব্লু কার্বন সম্পদ।‘

তবে চিংড়ি চাষের সম্প্রসারণ, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে এসব বাস্তুতন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে ব্লু কার্বন মজুদের পূর্ণাঙ্গ ও উচ্চ-রেজল্যুশনের জাতীয় তথ্যভান্ডারের ঘাটতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ব্লু কার্বন উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে প্রীতি কনা সিকদার বলেন, কার্বন মজুদ পরিমাপ, রিপোর্টিং ও যাচাইয়ের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক কার্বন বাজার ও অর্থায়নের সঙ্গে সংযোগ জোরদারের পাশাপাশি স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিং, স্থানিক পরিকল্পনা ও বৃহৎ পরিসরে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রযুক্তি ব্যবহারেও গুরুত্ব দিতে হবে। বন, মৎস্য, পানি ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ও আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে চীনের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় জলাভূমি পুনরুদ্ধার, উপকূল ব্যবস্থাপনা, টেকসই মৎস্য ও জলজ চাষ এবং সামুদ্রিক স্থানিক পরিকল্পনায় চীনের অর্জিত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।‘

বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার পাঁচটি সম্ভাব্য ক্ষেত্রও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে সুন্দরবন ও অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় যৌথ পরীক্ষামূলক পুনরুদ্ধার প্রকল্প, স্যাটেলাইটভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ও কার্বন পরিমাপ প্রযুক্তি হস্তান্তর, সবুজ অর্থায়নের কাঠামো তৈরি, যৌথ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারের উপযোগী প্রকল্প তৈরিতে বাংলাদেশকে সহায়তা।

তিনি প্রস্তাব দেন, ‘প্রথম তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে একটি বিস্তৃত জাতীয় ব্লু কার্বন মজুদের তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। পরবর্তী দুই বছরে পরীক্ষামূলক পুনরুদ্ধার প্রকল্পের সঙ্গে কার্যকর কার্বন পরিমাপ, রিপোর্টিং ও যাচাইব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। সফল প্রকল্পগুলো পরবর্তী পর্যায়ে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করে কার্বন বাজারের সঙ্গে যুক্ত করারও প্রস্তাব দেন তিনি।

এ জন্য দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে একটি দ্বিপক্ষীয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রীতি কনা সিকদার বলেন, ‘ব্লু কার্বন কেবল পরিবেশগত কোনো বিষয় নয়; এটি বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বাংলাদেশ ও চীন নিজেদের প্রযুক্তি, অর্থায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা, পরিবেশগত জ্ঞান ও নীতিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এ ক্ষেত্রে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারে।‘

তিনি আরও বলেন, ‘পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত বাংলাদেশ-চীন ব্লু কার্বন অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহত্তর সামুদ্রিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতার একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে।

তথ্য ও ছবি: সিএমজি বাংলা

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Featured Products

View All

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.