ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, সিএমজি বাংলা: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ এস এম আলী আশরাফ।
সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চীন শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়: দ্বিতীয় রাউন্ডটেবিল’-এর ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড রিজিওনাল চেঞ্জেস অ্যান্ড দেয়ার ইমপ্যাক্ট অন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেশনে তিনি এ বিষয়ে একটি উপস্থাপনা করেন।
উপস্থাপনায় অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে না, এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও পড়ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক ‘চেক পয়েন্ট’গুলোতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি জ্বালানি ও আমদানি-নির্ভর সরবরাহব্যবস্থার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম, পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তেল ও গ্যাস মজুত সক্ষমতা বাড়ানো, সরবরাহব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করা এবং জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি ও অবকাঠামোগত প্রয়োজনের সঙ্গে চীনের শিল্প ও বিনিয়োগ সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানো গেলে তা জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বিশেষভাবে তেল ও গ্যাস সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণে চীনের শিল্প সক্ষমতা ও বিনিয়োগকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের উৎপাদনশীল শিল্প, অবকাঠামো এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতেও চীনের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে।‘
অধ্যাপক আলী আশরাফের মতে, পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার কৌশল নির্ধারণও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে বাস্তব-ভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তথ্য ও ছবি: সিএমজি বাংলা