ইসরায়েলকে অবিলম্বে লেবানন থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছোং। সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তিনি সংঘাত বন্ধ ও উত্তেজনা প্রশমনের জন্য অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানান।
ফু ছোং লেবাননের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে দেশটিতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনীকে (ইউএনআইএফআইএল) তার ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দিতে হবে।
ফু বলেন, “সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার পরিস্থিতির নাটকীয় অবনতি হয়েছে। ইসরায়েল লেবাননে তার সামরিক অভিযান সম্প্রসারিত করেছে, তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে এবং এমনকি লিটানি নদী অতিক্রম করে বিউফোর্ট ক্যাসল দখল করেছে। এটি গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের সবচেয়ে গভীর সামরিক অভিযান। পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক দিকে যাওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।”
লেবাননের জনস্বাস্থ্য জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে তিন হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
রোববার ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান যে, তিনি লেবাননে হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও গভীর ও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই নির্দেশনা আসে দক্ষিণ লেবাননের বোফোর রিজ এবং এর চূড়ায় অবস্থিত কৌশলগত দুর্গ দখলের পর। এলাকাটি সেই ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এর বাইরের অংশে অবস্থিত, যেখানে এপ্রিলের মাঝামাঝি ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে একে “দুই দশকেরও বেশি সময়ে লেবাননে ইসরায়েলের সবচেয়ে গভীর অগ্রযাত্রা” হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব বিশ্ব। পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যও এর সমালোচনা করেছে।
সূত্র: সিএমজি