Wednesday, November 4, 2026
Live
আন্তর্জাতিক
Verified
২ মিনিটে পড়া যাবে

স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ, চীনের আইন ও অভিভাবকদের স্বস্তি

সিএমজি
সিএমজি বাংলা বিভাগ
প্রকাশ: আপডেট:
স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ, চীনের আইন ও অভিভাবকদের স্বস্তি

সেপ্টেম্বর ৬, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: গ্রীষ্মের ছুটি মানেই ইয়ে হুইয়ের কাছে এক ডিজিটাল যুদ্ধ। কারণ, ট্যাব কেড়ে নিলেও তার ১০ বছরের ছেলে ঠিকই পাসওয়ার্ড ভেঙে সেটি ঠিকই ব্যবহার করত। ফলে নতুন সেমিস্টার শুরু হওয়ায় ইয়ে হুই এখন বেশ স্বস্তিতে আছেন; শুধু এ কারণে নয় যে তার ছেলে ক্লাসে ফিরেছে, বরং এবার আইনও তাদের পক্ষে রয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ছোংছিং সিটিতে বসবাসকারী ইয়ে হুই বলেন, ‘স্মার্ট ডিভাইস নিষিদ্ধ করার বিষয়টি এখন আর কেবল স্কুলের কোনো নিয়ম নয়, তাই শিক্ষকদের কথা শিক্ষার্থীরা আরও গুরুত্ব দিয়ে শুনবে।‘

ছোংছিংয়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধ প্রতিরোধ সংক্রান্ত একটি স্থানীয় আইনের আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যা গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এই আইনের ফলে ইয়ে হুইয়ের ছেলে এবং তার সমবয়সী শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফোন, ট্যাব ও অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে প্রায় ২০ কোটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ৯৭ শতাংশের বেশি অপ্রাপ্তবয়স্কের অনলাইনে প্রবেশাধিকার রয়েছে।

বেইজিং একাডেমি অফ সোশ্যাল সায়েন্সেসের সহযোগী গবেষণা ফেলো ওয়াং পেং বলেন, অ্যালগরিদমের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মনোযোগের ঘাটতি বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশেই একটি বড় সমস্যা। শিক্ষার্থীদের এই নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে স্কুলগুলোতে মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা আইনগতভাবে জরুরি ছিল, যা স্কুলগুলোকে এটি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি দেয়।

শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশ নিশ্চিত করতে এবং একটি নিরাপদ ইন্টারনেট পরিবেশ গড়ে তুলতে ছোংছিংয়ের মতো কুয়াংতোং প্রদেশের কুয়াংচৌ, হ্যনান প্রদেশের চেংচৌ এবং ফুচিয়ান প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এ ধরনের আইনি নিষেধাজ্ঞা চালু করা হয়েছে।

ছোংছিংয়ের স্থানীয় আইনপ্রণেতাদের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তি প্রতিরোধ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। অপ্রাপ্তবয়স্কদের অধিকার সুরক্ষায় ২০২১ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনার আলোকেই এই বিধান আনা হয়েছে। আইন প্রণয়নের সময় ছোংছিংয়ের আইনসভা দেখতে পায় যে, স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে ক্ষতিকর তথ্যের সংস্পর্শে আসায় স্কুলগামী শিশুদের অনেকে ভুল ধারণা ও মূল্যবোধের শিকার হচ্ছে, এমনকি অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে।

ছোংছিংয়ের ২৯তম মিডল স্কুলের শিক্ষার্থী সিয়াং চুনই স্কুলে ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে স্বীকার করেছে যে, ফোন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বিঘ্নিত করে এবং পড়াশোনার ক্ষতি করে।

২৯তম মিডল স্কুলের সুপারভাইজার চিয়াং ইয়ংসং বলেন, ‘এটি কোনো একপেশে বা কঠোর নিষেধাজ্ঞা নয়।‘ আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে যে, কোনো শিক্ষার্থীর যদি সত্যিই স্কুলে ফোন প্রয়োজন হয়, তবে অভিভাবকরা লিখিত আবেদন করতে পারবেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়েই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য সমাজ, স্কুল ও পরিবারকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সূত্র: সিএমজি

লেখাটি রেটিং দিন

লেখাটি আপনার কেমন লেগেছে?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Featured Products

View All

আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.