মে ২৬, সিএমজি বাংলা, ঢাকা: ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। একই সাথে অর্থনৈতিক খাত, ব্যাংকিং ও সামগ্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ২০৪০ সালের মধ্যে কয়েক কোটি পর্যটক আকর্ষণ এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি বড় বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে।
সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যেই ফল দিতে শুরু করেছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সাথে বাজারে জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, নিম্নআয়ের মানুষের সামাজিক সুরক্ষায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী ৫৫ লাখ নিম্নআয়ের পরিবারকে প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
মুখপাত্র জানান, দেশের আকাশসীমা, ভূখণ্ড ও সমুদ্রসীমার সার্বিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দৃঢ়, আপসহীন ও সাহসী অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের আকাশসীমায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো দিনরাত নজরদারি রাখছে অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার। এই রাডারের মাধ্যমে ঢাকা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরে ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
এই আধুনিক প্রযুক্তির ফলে গভীর সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আহরণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বর্তমান সরকার ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন ও মাইন ডিটেক্টর স্থাপনের মতো যুগান্তকারী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) শক্ত ও স্বার্বভৌম অবস্থানকে সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিরই বাস্তব প্রতিফলন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
এ সময় তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজেও হাত দেবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, মো.শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এবং সুজাউদ্দৌলা।
প্রতিবেদন: শুভ আনোয়ার
সম্পাদনা: আফরিন নাহার