চীনের প্রস্তাবিত বৈশ্বিক উদ্যোগগুলো বহুপাক্ষিকতা, সমতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৃহত্তর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে আরও ন্যায় ও সমতাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গঠনের পথ দেখায় বলে মন্তব্য করেছেন মিশরের বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা।
শনিবার কায়রোভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক গ্লোবাল ফোরাম ফর ফিউচার স্টাডিজ আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এসব মন্তব্য করেন। সেমিনারে চীনের স্টেট কাউন্সিল ইনফরমেশন অফিস গত ১৭ জুন প্রকাশিত ‘আরও ন্যায় ও সমতাপূর্ণ বৈশ্বিক শাসন: চীনের নীতি, প্রস্তাবনা ও কর্মপন্থা’ শীর্ষক শ্বেতপত্রের আলোকে গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ (জিজিআই) পর্যালোচনা করা হয়।
শ্বেতপত্রে আরও ন্যায় ও সমতাপূর্ণ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং মিশরীয় কাউন্সিল ফর ফরেন অ্যাফেয়ার্সের সদস্য সামার ইব্রাহিম বলেন, ‘জিজিআই এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করে, যা চীন-প্রস্তাবিত চারটি প্রধান উদ্যোগকে একত্রিত করে। এগুলো হলো— গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই), গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ (জিএসআই), গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ (জিসিআই) এবং জিজিআই।‘
তিনি বলেন, চীনের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, ব্যাপক পরামর্শ, যৌথ সুবিধা এবং অভিন্ন উন্নয়নের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর লক্ষ্য মানবজাতির জন্য একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন সমাজ গঠন।
আল-আহরাম সেন্টার ফর পলিটিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক মারাম দিয়া বলেন, “বিশ্ব ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সংরক্ষণবাদ, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত বিরোধের পাশাপাশি গ্লোবাল নর্থ এবং গ্লোবাল সাউথের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ব্যবধানের সম্মুখীন হচ্ছে। এই ‘শাসনব্যবস্থার ঘাটতি’ মোকাবিলায় জিজিআই ‘একটি সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বহুমেরু বিশ্ব’ গড়ে তোলার পক্ষে সমর্থন জানায়।“
সূত্র: সিএমজি