চীনের ছোংছিং পৌরসভার ফেংশুই মিয়াও ও থুচিয়া স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টিতে ভূমিধসের পর জোর উদ্ধারতৎপরতা চলছে। সপ্তাহান্তজুড়ে উদ্ধার ও ত্রাণকর্মীরা জীবিতদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে দুর্গতদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ৮৭২ জন উদ্ধারকর্মী এবং জীবন শনাক্তকারী যন্ত্রসহ ১,১০০টিরও বেশি সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে ফেংশুইয়ে এ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে আটজন নিহত হন এবং আরও ৩৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি ১০ জনের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত এবং দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ মিটার, উচ্চতা ৩০ মিটার এবং গভীরতা ১০ মিটার।
বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি বৃহৎ আকারের শিলাধস (রকফল) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সবচেয়ে বড় শিলাখণ্ডটির আয়তন প্রায় ৩ হাজার ঘনমিটার, যা প্রায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনের সমান।
চায়না আননেং কনস্ট্রাকশন গ্রুপের তৃতীয় প্রকৌশল গ্রুপের প্রধান প্রযুক্তিবিদ চৌ চিতোং গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এত বড় শিলাখণ্ডের কারণে উদ্ধার অভিযান আমাদের উদ্ধারকর্মীদের পূর্ববর্তী যেকোনো অভিজ্ঞতার তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।‘
তিনি জানান, উদ্ধারস্থলটি অত্যন্ত সংকীর্ণ। চারদিকে পাহাড়, খাড়া ঢাল এবং একটি নদী থাকায় একসঙ্গে মাত্র একটি বা দুটি ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশ করতে পারে। ফলে বড় ধরনের যন্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রে গুরুতর সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান লি লি বলেন, ‘পাহাড়ের অভ্যন্তরে ফাটলগুলো লুকিয়ে থাকায় ভূমিধসের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ওপর থেকে বোঝা সম্ভব হচ্ছিল না। এজন্য বিশেষজ্ঞদের পাহাড়ের চূড়ায় উঠে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে হয়েছে।‘
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ১,১০০ জনেরও বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়, যার মধ্যে মূল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ৬০ জনেরও বেশি মানুষ ছিলেন।
দুর্যোগের পর স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসাকর্মী, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। কাউন্টিজুড়ে এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও ব্যাপক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করে।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন আহতদের চিকিৎসায় সহায়তা করতে জরুরি চিকিৎসা দল এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে।
কমিশন দ্রুত জাতীয় ও ছোংছিংয়ের জরুরি চিকিৎসা উদ্ধারদলকে সক্রিয় করে এবং চিকিৎসাকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করেছে।
সূত্র: সিএমজি