জুলাই ২৩: কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ২৩ জুলাই সকালে ম্যানিলায় মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেলআতি-এর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন।
ওয়াং ই জানান, এ বছর চীন-মিশর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৭০তম বার্ষিকী। ৭০ বছর ধরে চীন ও মিশর উন্নয়নশীল বড় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতার একটি মডেল স্থাপন করেছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক, বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি প্রদর্শন করে এবং বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রেসিডেন্ট আবদেলফাত্তাহ আল-সিসি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং গভীর পারস্পরিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য কৌশলগত নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। চীন মিশরের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বিনিময় ঘনিষ্ঠ করতে, বাণিজ্য, সামরিক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা গভীর করতে এবং বহুপাক্ষিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করতে চায়, যা নতুন যুগে চীন-মিশর অভিন্ন কল্যাণের সমাজ যৌথভাবে গঠন করবে। মিশরের সমর্থনে, মিনা হাউস প্যালেসে 'কায়রো ঘোষণাপত্র' স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ স্মারক তাত্পর্য বহন করে এবং ইতিহাসকে সম্মান করা, ন্যায়বিচার প্রচার করা এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার মিশরের ইতিবাচক মনোভাব প্রতিফলিত করে।
আবদেলআতি জানান, মিশর হলো প্রথম আরব ও আফ্রিকান দেশ যা নতুন চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক ৭০ বছর ধরে বিকশিত হয়েছে, ভিত্তি দৃঢ়, ফলাফল সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী গতি প্রদর্শন করছে। মিশর দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি অনুসরণ করে এবং চীনের জন্য আফ্রিকার প্রবেশদ্বার হতে চায়। কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৭০তম বার্ষিকীকে সুযোগ হিসেবে, মিশর চীনের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরের বিনিময় জোরদার করতে, রাজনৈতিক পারস্পরিক বিশ্বাস সুদৃঢ় করতে, বৈদ্যুতিক গাড়ি, সৌর শক্তি, শিল্প উদ্যানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা গভীর করতে এবং চীন-মিশর সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন স্তরে নিয়ে যেতে চায়।
উভয় পক্ষ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতিসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে মতবিনিময় করেছে। ওয়াং ই চীনের নীতি অনুযায়ী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জানান, ইরান-মার্কিন সমঝোতা স্মারক অর্জন সহজ ছিল না, এটি সব পক্ষের দ্বারা মূল্যবান মনে করা উচিত। চীন মিশরের মধ্যস্থতা ভূমিকা পালনকে সমর্থন করে এবং শান্তি আলোচনায় সক্রিয়ভাবে উত্সাহিত করে। ফিলিস্তিন ইস্যু মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মূল, যা উপেক্ষা বা প্রান্তিক করা উচিত নয়। বর্তমান জরুরি কর্তব্য হল গাজায় মানবিক পরিস্থিতি উপশম করা।
সূত্র: সিএমজি