শক্তি প্রয়োগের হুমকি বা যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ইরানের পারমাণবিক ইস্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দেবে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘে চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি সুন লেই।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। চীন ও রাশিয়ার আপত্তি সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে একটি উন্মুক্ত বৈঠক আয়োজন করে এবং ভোটের মাধ্যমে একটি প্রক্রিয়াগত প্রস্তাব অনুমোদন দেয়।
সুন লেই বলেন, কিছু দেশ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মতপার্থক্য ও উদ্বেগকে উপেক্ষা করে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করছে। এমনকি যে বিষয়টির পর্যালোচনা ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে, তা নিয়েও বৈঠক ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এসব দেশকেই দায় বহন করতে হবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) থেকে সরে যাওয়া এবং আলোচনার সময় দু’বার ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমান জটিল পরিস্থিতির প্রধান কারণও এটি।
চীনা প্রতিনিধি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিষদের উচিত গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা। ইরানের ওপর ক্রমাগত নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সৃষ্টি না করে রাজনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করতে হবে।
তিনি বলেন, চীন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। চীন সবসময় নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং সংঘাত বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সুন লেই জানান, ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর যথাযথ সমাধান এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। সংলাপ ও আলোচনাকে এগিয়ে নিতে চীন ভবিষ্যতেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
সূত্র: সিএমজি