যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ধারণ করতে দেবে না বলে জানিয়েছে ইরান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, গত পাঁচ মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘অচলাবস্থায়’ রয়েছে। তিনি বলেন, "যুদ্ধ ও শান্তির সময়সূচি যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ধারণ করতে দেওয়া হবে না। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন ইরান আত্মরক্ষা চালিয়ে যাবে।"
তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে সম্প্রতি ওমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার ভাষায়, এটি ইরান ও ওমানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং তা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে।
বাঘাই আরও অভিযোগ করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে জড়িত রয়েছে, তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে, সপ্তাহান্তে কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলারও কঠোর নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই অভিযোগ করেন, এ হামলায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। তিনি এটিকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ইউরোপকে যুদ্ধে টেনে আনতে ইসরায়েলের প্ররোচনায় চালানো পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইউক্রেনের এই হামলা সম্পূর্ণ অবৈধ, অযৌক্তিক এবং বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতা। এর পরিণতি ‘অপ্রত্যাশিত’ হবে এবং ইরান এর জবাব দেবে।
অন্যদিকে একই দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে ‘খুবই গভীর’ আলোচনা চলছে। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র "খুব শক্তিশালী সামরিক অভিযান" আবার শুরু করবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে আলোচনার সুযোগ দিতে তিনি ২৪ জুলাই ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মার্কিন সামরিক হামলা স্থগিত করেছিলেন।
কূটনীতিকে কতদিন সুযোগ দেবেন এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "বেশি সময় নয়। হয় দ্রুত অগ্রগতি হবে, না হলে হবে না।"
সূত্র: সিএমজি