Wednesday, June 10, 2026
Live

মানুষ ও প্রকৃতি ৭৩

সিএমজি
সিএমজি বাংলা বিভাগ
Published: Updated:
মানুষ ও প্রকৃতি ৭৩

যা রয়েছে এবারের পর্বে ১. ইয়ূনানের অরণ্যে স্লো লরিসের নতুন যাত্রা ২. সুস্থ রয়েছে গবেষণার জন্য মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো চীনা ইঁদুরেরা নিবিড় সবুজ অরণ্য। পাখির ডানা মেলার শব্দ। নীল আকাশ। দূষণহীন সমুদ্র। আমাদের নীল গ্রহকে আমরা এমনভাবেই দেখতে চাই।পরিবেশ ও প্রতিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব সেই নির্মল প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য। সুপ্রিয় শ্রোতা মানুষ ও প্রকৃতি অনুষ্ঠান থেকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি হোসনে মোবারক সৌরভ। বিশাল দেশ চীনের রয়েছে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় নিরলস প্রচেষ্টার ফলে চীনে জীববৈচিত্র্য যেমন বাড়ছে তেমনি উন্নত হচ্ছে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র। আমাদের অনুষ্ঠানে আমরা চীনসহ পুরো বিশ্বের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বাস্তুতন্ত্র নিয়ে কথা বলবো।

ইয়ূনানের অরণ্যে স্লো লরিসের নতুন যাত্রা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট, নিশাচর ও বিষধর প্রাইমেট হচ্ছে স্লো লরিস। এর ধীর গতির চলাফেরা ও বড় চোখ তাকে করে তুলেছে অনন্য। বন ধ্বংস, অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য ও মানুষের শিকারের কারণে এ প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির পথে। তবে চীনের ইউনান প্রদেশের থং পি কুয়ান প্রাকৃতিক সংরক্ষণাগারে এক পুনর্বাসিত স্লো লরিসকে সফলভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বনে । প্রকৃতিতে ফিরতে পেরে প্রাণীটি আবার খুঁজে পেয়েছে তার স্বাভাবিক জীবন। বিস্তারিত চলুন শুনে আসি… নিশ্চুপ অন্ধকারে যখন অন্য প্রাণীরা ঘুমিয়ে থাকে, তখন গভীর জঙ্গলের শুরু হয় এক অদ্ভুত প্রাণীর কার্যক্রম। যার নাম স্লো লরিস। নামের মতোই, তাদের চলাফেরা বেশ ধীর গতির। আর আচরণে রয়েছে একরাশ রহস্য। স্লো লরিস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি ছোট আকারের প্রাইমেট।

ঘন বাদামি পশমে মোড়া এ প্রাণীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো তার বড় গোল চোখ। ছোট মাথা, গোলাকার মুখ, আর আঙুলগুলো এমনভাবে গঠিত যেন সহজেই যে কোন ডাল আঁকড়ে থাকতে পারে। স্লো লরিস মূলত নিশাচর প্রাণী। দিনভর তারা গাছের ফাঁকে লুকিয়ে থাকে, আর রাতে বেরিয়ে পড়ে খাবারের সন্ধানে। তাদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে ফল, পোকামাকড়, ছোট পাখি, এমনকি গাছের রসও। ধীরে ধীরে চললেও তারা শিকার ধরতে বেশ দক্ষ—চুপিচুপি কাছে গিয়ে হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, স্লো লরিস বিশ্বের একমাত্র বিষধর প্রাইমেট। তাদের বাহুর নিচে থাকা একটি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় বিষাক্ত পদার্থ, যা তারা কামড়ের মাধ্যমে শত্রুর শরীরে ছড়িয়ে দেয়। এই বিষ মানুষকেও অ্যালার্জি বা গুরুতর সংক্রমণের শিকার করতে পারে। বন উজাড়, অবৈধ পোষা প্রাণীর ব্যবসা, আর ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরিতে ব্যবহারের কারণে স্লো লরিস আজ বিশ্বব্যাপী বিলুপ্তির পথে। আইইউসিএন (IUCN) এর লাল তালিকায় বা বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে স্লো লরিসকে। তবে এশীয় এই প্রাইমেটটি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে চীন।

সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইয়ুনান প্রদেশের থং পি কুয়ান প্রাকৃতিক সংরক্ষণাগারে পুনরুদ্ধার করা একটি স্লো লরিস কে অবমুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানান, প্রাণীটিকে জুলাই মাসে উদ্ধার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে তার যত্ন নেওয়া হয় এবং বন্য অঞ্চলে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সক্ষমতা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা মনে করেন, থং পি কুয়ান প্রাকৃতিক সংরক্ষণাগারটি এই স্লো লরিসের জন্য এক আদর্শ আবাসস্থল। সংরক্ষণাগারটির ৯০ শতাংশেরও বেশি বনভূমি নিয়ে গঠিত এবং এখানে রয়েছে পোকামাকড় ও বন্য ফলের মতো প্রচুর খাদ্য সম্পদ। তাই এই অনুকূল পরিবেশে স্লো লরিসটি খুব দ্রুতই খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।

গভীর অরণ্যের ধীর গতির রহস্যময় নিশাচর প্রাণী স্লো লরিস হচ্ছে প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। এটি কেবল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাইমেট নয়, বরং বিশ্বের একমাত্র বিষধর প্রাইমেট হিসেবে জীববৈচিত্র্যের এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। প্রতিবেদন: হোসনে মোবারক সৌরভ সম্পাদন: আল আমিন আজাদ তথ্য: সিসিটিভি সুস্থ রয়েছে গবেষণার জন্য মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো চীনা ইঁদুরেরা চীনের মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকংয়ে পাঠানো হয়েছে চারটি ইঁদুর। গবেষণার জন্য পাঠানো এই চারটি ইঁদুর বর্তমানে সুস্থভাবে মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে মানিয়ে নিয়েছে। বিশেষ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখা এই ইঁদুরের মধ্যে দুটি পুরুষ ও দুটি স্ত্রী স্বাভাবিকভাবে খাচ্ছে এবং তাদের কার্যকলাপ, আচরণে কোনো উল্লেখযোগ্য কোন পার্থক্য দেখা যায়নি। পাঁচ থেকে সাত দিনের এই মহাকাশ অভিযান শেষে ইঁদুরগুলো শেনচৌ-২০ মহাকাশযানের মাধ্যমে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে এবং পরে আরও গবেষণার জন্য পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিস্তারিত চলুন শুনে আসি।

চীনের থিয়ানকং মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো চারটি ইঁদুর মহাকাশে সুস্থ রয়েছে এবং মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরিবেশে ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। শনিবার চীনা একাডেমি অফ সায়েন্সেসের মহাকাশ ব্যবহার প্রযুক্তি ও প্রকৌশল কেন্দ্র এই তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইঁদুরগুলোকে বিশেষ একটি ইউনিটের ভেতরের উপযুক্ত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং অক্সিজেনের ঘনত্বসহ রাখা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ ডেটা অনুযায়ী, চারটি ইঁদুরের মধ্যে দুটি পুরুষ ও দুটি স্ত্রী ইঁদুর স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে, ভূমিতে থাকা নিয়ন্ত্রিত দলের তুলনায় তাদের কার্যকলাপের স্তর এবং আচরণের ধরনে কোনও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। মহাকাশে পাঁচ থেকে সাত দিন থাকার পর ইঁদুরগুলো শেনচৌ-২০ মহাকাশযানে করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে এবং এরপর তাদের উপর আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানো হবে। মহাকাশে থাকাকালীন শেনচৌ-২১ এর নভোচারীরা ২৭টি নতুন বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করবেন।

 

প্রতিবেদন: শুভ আনোয়ার সম্পাদনা: আফরিন মিম তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি

প্রিয় শ্রোতা, আমাদের প্রিয় এই বিশ্বকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু দায়িত্ব রয়েছে। আসুন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা সবাই একসাথে এগিয়ে আসি। এখন হেমন্তকাল—শিশির ভেজা স্নিগ্ধ সকাল, চারপাশে সোনালী ফসলের হাতছানি, আর এক ধরনের শান্ত নীরবতা। মাঠজুড়ে পাকা ধানের ঘ্রাণ আর নতুন ফসলের আগমনী সুর প্রকৃতিতে নিয়ে আসে এক উৎসবের আমেজ। এই সময় প্রকৃতি নবান্নের সাজে সেজে ওঠে, আর আমাদেরও মনে করিয়ে দেয় পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব। শীতের আগমনী বার্তা হিসেবে এই সময়ে পরিযায়ী পাখিদের আগমন ঘটছে আমাদের চারপাশে। তাদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং শিকারীদের থেকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এছাড়াও, আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং গাছের পাতা ও আবর্জনা জমে যেন মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। আমাদের এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই হতে পারে একটি টেকসই ভবিষ্যতের ভিত্তি। আজকের মতো এই আহ্বান জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি আমি হোসনে মোবারক সৌরভ। আগামী সপ্তাহে আবারও কথা হবে, সেপর্যন্ত ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাই চিয়েন।

পরিকল্পনা, গ্রন্থনা, উপস্থাপনা ও অডিও সম্পাদনা: হোসনে মোবারক সৌরভ সার্বিক সম্পাদনা: ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.