গতকাল (মঙ্গলবার) ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায়, সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, আসিয়ান মহাসচিব কাও কিম হং-এর সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, চীন সর্বদা আকার নির্বিশেষে সকল দেশের মধ্যে সমতার নীতি মেনে চলে এবং তার প্রতিবেশীদের সাথে সর্বদা সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি অনুসরণ করে আসছে। এই বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের ৫০তম বার্ষিকী। চীন এই চুক্তিতে যোগদানকারী প্রথম প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল, যা অন্যান্য প্রধান শক্তিগুলোকে অনুসরণ করতে উত্সাহিত করে এবং আসিয়ানের আন্তর্জাতিক মর্যাদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। চীন আসিয়ান কমিউনিটি গঠনে এবং আসিয়ানের ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হওয়ার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে যাবে।
তিনি বলেন, চলতি বছর চীন ও আসিয়ানের মধ্যে ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫ম বার্ষিকীও পালিত হচ্ছে। আজকের বিশ্বে, অস্থিরতা ও পরিবর্তনের মাঝেও, পূর্ব এশিয়া সাধারণভাবে সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে, যা একটি কষ্টার্জিত সাফল্য এবং সকল পক্ষের কাছে মূল্যবান। চীন এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং আসিয়ানের সাথে সহযোগিতা জোরদার করতে, পারস্পরিক আস্থা, বোঝাপড়া ও সমর্থন গভীর করতে এবং চীন ও আসিয়ানের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করতে ইচ্ছুক।
ওয়াং ই বলেন, চীন সম্প্রতি শাংহাইয়ে সফলভাবে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের আয়োজন করেছে এবং বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এই সংস্থার লক্ষ্য হলো, দক্ষিণের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যাতে তারা সময়ের সাথে তাল মেলাতে এবং নিজেদের উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণকে এগিয়ে নিতে পারে। চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় আসিয়ানের অব্যাহত সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করে এবং আরও আসিয়ান দেশকে এই সংস্থায় যোগদানের জন্য স্বাগত জানায়।
ওয়াং ই আরও বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর এই অঞ্চলের দেশগুলোর অভিন্ন আবাসভূমি, এবং দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুটি চীন-আসিয়ান সম্পর্কের পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। ফিলিপিন্সের সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর কিছু অংশের ইচ্ছাকৃত উস্কানি, চীন-ফিলিপিন্স সম্পর্ক উন্নয়ন প্রক্রিয়া এবং দক্ষিণ চীন সাগরের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করছে; এই অঞ্চলের দেশগুলোর অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।
কাও কিম হং আসিয়ান-চীন সম্পর্ক এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বাস্তব সহযোগিতার সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক কাঠামোতে আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার প্রতি চীনের দৃঢ় সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। আসিয়ান চীনের সাথে যৌথভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে ইচ্ছুক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: সিএমজি বাংলা