২১০ দিনের দীর্ঘ মহাকাশযাত্রা শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চীনের শেনচৌ-২১ মিশনের তিন নভোচারী। এই মিশনটি চীনের মহাকাশ স্টেশনে একক ক্রুর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থানের এক নতুন রেকর্ড।
বেইজিং সময় রাত ৮টা ১১ মিনিটে উত্তর চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের তোংফেং অবতরণস্থলে নিরাপদে অবতরণ করে নভোচারীদের বহনকারি ক্যাপসুলটি। রাত ৮টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে তিন নভোচারীই ক্যাপসুল ত্যাগ করেন।
এ প্রসঙ্গ চীনের মানববাহী মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে যে, নভোচারী চাং লু, উ ফেই এবং চাং হংচাং সুস্থ আছেন এবং তাদের শেনচৌ-২১ মিশন পুরোপুরি সফল।
মিশন কমান্ডার চাং লু বলেন, মহাকাশের অসীম যাত্রায় একজন নভোচারীর সাফল্যের পেছনে পুরো দলের নিঃস্বার্থ অবদান আছে। তিনি মহাকাশ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং চীনা জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এটি চাং লুর দ্বিতীয় মহাকাশযাত্রা। তিনি এ পর্যন্ত মোট সাতবার মহাকাশে চীনা নভোচারীদের মধ্যে সর্বাধিক স্পেসওয়াকের রেকর্ড গড়েছেন।
চীনের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মী দিবস উপলক্ষে তিনি একটি বিশেষ স্মারকও পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছেন। শেনচৌ-২১ উৎক্ষেপণের দিন গ্রাউন্ড সাপোর্ট টিমের দেওয়া একটি আপেল তিনি পুরো মিশনজুড়ে সংরক্ষণ করেন এবং তা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনেন।
অন্যদিকে, প্রথম মহাকাশ মিশনেই তিনটি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করা উ ফেই বর্তমানে সবচেয়ে কম বয়সী চীনা নভোচারী হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।
মহাকাশ স্টেশনে একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা পেলোড বিশেষজ্ঞ চাং হংচাং বলেন, মাতৃভূমির কারণেই তার বৈজ্ঞানিক আকাঙ্ক্ষা ও মহাকাশযাত্রার স্বপ্ন একসঙ্গে বাস্তবায়িত হয়েছে।
২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর চীন শেনচৌ-২১ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করে। পরে শেনচৌ-২০ মিশনের নভোচারীরা দেখতে পান যে তাদের মহাকাশযানের রিটার্ন ক্যাপসুলের জানালায় মহাকাশ ধ্বংসাবশেষের সম্ভাব্য আঘাত লেগেছে, যা ফিরে আসার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর শেনচৌ-২০ ক্রু শেনচৌ-২১ মহাকাশযানে করে পৃথিবীতে ফেরেন। পরবর্তীতে ২৫ নভেম্বর চীন শেনচৌ-২২ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করে, যা শেনচৌ-২১ ক্রুর জন্য জরুরি প্রত্যাবর্তনযান হিসেবে কাজ করে।
নাহার/লুৎফর
তথ্য ও ছবি- সিনহুয়া