Wednesday, July 22, 2026
Live

তরুণী ভ্লগারের চোখে জাদুকরী বেইজিং

সিএমজি
সিএমজি বাংলা বিভাগ
Published: Updated:
তরুণী ভ্লগারের চোখে জাদুকরী বেইজিং

সাকিব সিকান্দার

চীনের রাজধানী বেইজিং এখন শুধু ইতিহাসের ভাণ্ডারই নয়, বরং এমন এক জীবন্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ। সেখানে রয়েছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অনন্য মেলবন্ধন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক ভ্লগারের ভিডিওতে উঠে এসেছে শহরটির এই বহুমাত্রিক রূপ।

ঐতিহ্যবাহী চীনা অপেরার নান্দনিক অঙ্গভঙ্গি থেকে শুরু করে ভবনের ছাদে আয়োজিত সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং নদীতীরের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা—বেইজিং তার দৈনন্দিন নগরজীবনের নানা স্থানে রেখে দিয়েছে স্মরণীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।

ভ্লগারের যাত্রার প্রথম গন্তব্য ছিল অষ্টাদশ শতাব্দীর চীনা সাহিত্যের কালজয়ী উপন্যাস ‘লাল প্রাসাদের স্বপ্ন’ অবলম্বনে সাজানো এক ইমার্সিভ রেস্তোরাঁ। সেখানে দর্শনার্থীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে উপন্যাস-অনুপ্রাণিত বিশেষ খাবারের স্বাদ নিয়ে যেন গল্পেরই একটি অংশ হয়ে ওঠেন।

ওই ভ্লগার বলেন, ‘আমার সত্যিই মনে হচ্ছে যেন আমি কোনো রূপকথার জগতে চলে এসেছি। লাল প্রাসাদের স্বপ্নের জগতে আপনাকে স্বাগতম। এর আগে আমি এমন কোনো মিষ্টান্ন খাইনি। এটি বিশেষ এবং একেবারে চীনা ঐতিহ্যের স্বাদে ভরপুর। আমার খুব ভালো লেগেছে।‘

এরপর তিনি যান বেইজিংয়ের বিখ্যাত ওয়াংফুচিং সড়কের একটি আধুনিক শপিং মলের ভেতরে অবস্থিত শতবর্ষী চিসিয়াং থিয়েটারে। শহরের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে লুকিয়ে থাকা থিয়েটারটি ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অনন্য সংমিশ্রণ।

সেখানে তিনি চীনের চারটি মহাকাব্যিক ক্লাসিক উপন্যাসের একটি ‘পশ্চিমাভিযান’ অবলম্বনে নির্মিত সুন উখোং বা মাঙ্কি কিং চরিত্রের পিকিং অপেরা উপভোগ করেন। তার মতে, পরিবেশনাটি ছিল ব্রডওয়ের প্রাণবন্ত আবহ এবং চীনা মার্শাল আর্টের অসাধারণ সমন্বয়।

তিনি বলেন, ‘বেইজিং শুধু সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের শহর নয়, এর রয়েছে আধুনিক ও ট্রেন্ডি এক আবহও। এটি এমন এক নতুন পারফর্মিং আর্টসের স্থান, যেখানে তরুণরা একসঙ্গে উপভোগ করেন।‘

বেইজিংয়ের এসব সাংস্কৃতিক ভেন্যুতে পরীক্ষামূলক নাটক, জ্যাজ সঙ্গীত, ছাদের টেরেস থেকে শহরের মনোরম দৃশ্য উপভোগের সুযোগসহ নানা আয়োজন রয়েছে।

ভ্লগারের সফরের শেষ গন্তব্য ছিল বেইজিংয়ের উপকেন্দ্র থোংচৌ জেলার গ্র্যান্ড ক্যানালে এক মনোমুগ্ধকর নৈশ নৌভ্রমণ। পানির ওপর সঙ্গীত ও আলোর সমন্বয়ে আয়োজিত পরিবেশনা যেন প্রমাণ করে বেইজিংয়ে যেকোনো উন্মুক্ত স্থানই অসাধারণ এক মঞ্চে পরিণত হতে পারে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দক্ষিণ চীন থেকে বেইজিংয়ে পণ্য পরিবহনের প্রধান জলপথ ছিল এই খাল। আর এখন সেই ঐতিহাসিক জলপথেই আলো ও সংগীতের পরিবেশনা অতীতকে নতুনভাবে জীবন্ত করে তুলছে। নৌভ্রমণ শেষে দর্শনার্থীরা নদীতীরে বসে চা-পানীয় উপভোগের পাশাপাশি আরও একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সাক্ষী হতে পারেন।

সূত্র: সিএমজি বাংলা

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.